Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০২১,

শাপলা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা খুলনা

শাপলা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

পাইকগাছায় শাপলা ক্লিনিকে আবারও ভুল চিকিৎসায় ৭ বছরের শিশু আবু সুফিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এখবর জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ক্লিনিকটি সিলগালা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। 

জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার পৌর সদরে অবস্থিত শাপলা ক্লিনিক অবস্থিত। এ ক্লিনিকে দাকোপ উপজেলার গড়খালী গ্রামের সালাম সরদার তার ৭ বছরের শিশু পুত্র আবু সুফিয়ানকে এ্যাপান্ডিক্স সমস্যা নিয়ে শুক্রবার দুপুরে পাইকগাছা পৌর সদরে শাপলা ক্লিনিকে ভর্তি করে। সাড়ে ১১ হাজার টাকা চুক্তিতে বিকালে সুফিয়ানকে বিকালে ডাক্তার নামধারী মটরসাইকেল চালক ফারুক, ক্লিনিক মালিক তাপস কুমার মিস্ত্রী ও এ্যানেন্থেশিয়া ডাক্তার প্রিন্স অপারেশন করে। ভোর রাতে রুগী নড়া-চড়া না করলে রুগীর স্বজনরা ডাক্তার, নার্স খুঁজে না পেয়ে ক্লিনিক মালিক তাপস কুমার মিস্ত্রীকে জানালে সে দেখে সুফিয়ান মারা গেছে। তখন তাপস কৌশল করে তার সুনির্দিষ্ট এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রুগী খুলনা পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ্যাম্বুলেন্সে তুলে ২শ গজ দূরে গেলে রুগীর নানা আশরাফ আলী খেয়াল করে দেখেন সুফিয়ান মারা গেছে। গাড়ী ড্রাইভার রহিমকে গাড়ী আর চালাতে দেয়নি। গাড়ি ঘুরিয়ে আসিফ ফিলিং স্টেশনে রাখে। রুগীর স্বজনরা খবর পেয়ে আসতে থাকে। এসময় থানা পুলিশ হাজির হয়। তারপর সাংবাদিকরা হাজির হয়। খোঁজ খবর নেয়ার এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে জানালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ইফতেখার বিন রাজ্জাককে নিয়ে ক্লিনিকে সকাল ১০ টায় যেয়ে দেখেন ১০ বেড ক্লিনিকে আছে ১৮ বেড। নেই নার্স, ডাক্তার। অপরিচ্ছন্ন, অব্যবস্থাপনা এবং ক্লিনিক বর্তমান বছরের নবায়ন না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ক্লিনিক বন্ধ করে সিলগালা করে দেন। শিশু আবু সুফিয়ান তার পরিবার মামলা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে পুলিশ লিখিত নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। 

পরিদর্শক (তদন্ত) সরদার ইব্রাহিম হোসেন ও এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করলে কিছু করার নেই। ক্লিনিকে থাকা অনিমা রানী এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ক্লিনিকের নবায়ন না থাকা, অতিরিক্ত বেডথাকা, অব্যবস্থাপনা, ডাক্তার না থাকার কারণে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, শাপলা ক্লিনিকে ইতোপূর্বে ভুল চিকিৎসার কারনে কয়েকবার খুলনা সিভিল সার্জন বন্ধ করে দিয়েছিল। তাপস বিভিন্ন লোকের সুপারিশ নিয়ে আবারো ক্লিনিক চালু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।