Opu Hasnat

আজ ১৭ এপ্রিল শনিবার ২০২১,

সিংগাইরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ কৃষি সংবাদমানিকগঞ্জ

সিংগাইরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ। চলতি মৌসুমে  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আওতাধীন এ উপজেলায় প্রনোদনা, পুনর্বাসন ও অন্যান্য মিলিয়ে সূর্যমুখী ফুল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে। গত বছর যা ছিল ২ হেক্টর। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানেই অনেক বেড়েছে সূর্যমুখীর আবাদ। বিভিন্ন হাইব্রীড জাতের সূর্যমুখী প্রতি হেক্টর জমিতে বীজ উৎপাদন হবে আড়াই থেকে ৩ টন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালের দিকে দেশে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ শুরু হলেও গত বছর থেকে এ উপজেলায় শীতকালীন ও খরিপ-১ মৌসুমে সূর্যমুখীর আবাদ কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে  উঠেছে। সূর্যের মতো দেখতে এ ফুল গাছ  যা লম্বায় ৬-৭ ফুট হয়। গাছে ফুল হয় প্রায় ১০-১২ ইঞ্চির মতো। চার মাসে এ সূর্যমুখী ফোঁটা থেকে বীজ পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত ওই ফুল সূর্যের দিকেই মুখ করে থাকে বলে মুলত এই ফুলের নামকরণ করা হয়েছে সূর্যমুখী। এই ফুলের বীজ হাঁস, মুরগী ও নানা জাতের পাখীর আদর্শ খাবার। অপরদিকে, এ বীজ থেকে উৎপাদন হয় পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল। গত বছর কৃষকেরা স্বল্প পরিসরে এর আবাদ করে লাভবান হওয়ায় কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ বছর ছড়িয়ে পড়েছে সূর্যমুখীর আবাদ। সূর্যমুখী তেলে কোলেস্টোরেলের মাত্রা কম থাকায় এ  ভোজ্যতেলের চাহিদা বেশী এবং হার্টের রোগীদের জন্য  উপকারী। এ ছাড়া এ তেলে  রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি। এসব বিবেচনায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে  সূর্যমুখীর আবাদ ও বাড়ছে তেলের কদর।

উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের কমলনগর চকে গিয়ে দেখা গেছে, বলরাম দেড় বিঘা, নান্টু ২ বিঘা, কমল আড়াই বিঘা, নকুল বিশ্বাস দেড় বিঘা ও গনেশের দেড় বিঘাসহ  অনেকেই জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছেন। এ সময় কথা হয় ওই গ্রামের কৃষক নৃপেন চন্দ্র রায় (৬৫) সঙ্গে । তিনি বলেন, গত বছর জমির আইলে স্বল্প পরিসরে সূর্যমুখীর আবাদ করেছিলাম। লাভজনক হওয়ায় এবার তিনি ৩ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, কার্ত্তিক মাসে বীজ বপন করতে পারলে গাছ ভালো হতো এবং ফলনও বেশী হতো। আমরা অগ্রহায়ন মাসে শুরু করেছি তার পরও বিঘা প্রতি ৮-১০ মণ বীজ আশা করছি। প্রতি মণ বীজ ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবো। সূর্যমুখী চাষে রোগ বালাই কম হয় এবং সরিষার চাইতে এটা ফলন ভালো দেয়।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, ২০২০-২১  অর্থবছরে রাজস্ব ফলোআপ প্রদর্শনীর আওতায় ৩৩ শতাংশ করে  ৪০ টি প্রদর্শনী প্লটে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর আগে দেশে সূর্যমুখীর আবাদ শুরু হলেও  গত বছর থেকে এ এলাকায় কৃষক পর্যায়ে বানিজ্যিকভাবে  বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ। তিনি আরো বলেন, এটা একটা তেল জাতীয় ফসল। এর গুণগতমান উৎকৃষ্ট হওয়ায় সম্প্রসারণে জোর চেষ্টা চলছে। এতে কৃষকেরা ও বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।