Opu Hasnat

আজ ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

কালকিনিতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুর চোখ উৎপাটনের চেষ্টার অভিযোগ! নারী ও শিশুমাদারীপুর

কালকিনিতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুর চোখ উৎপাটনের চেষ্টার অভিযোগ!

মাদারীপুরের কালকিনিতে যৌতুকের দাবিতে সাদিয়া-(২১) নামে এক গৃহবধুর চোখ উৎপাটনের চেষ্টাসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে থানা পুলিশের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নির্যাতনের ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে ভয়াবহ এ নির্যাতনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার গোপালপুর এলাকার পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের অসহায় কৃষক বারেক চৌকিদারের মেয়ে সাদিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার গুঙ্গিয়াকুল গ্রামের কাসেম মোল্লার প্রবাসী ছেলে নাসির মোল্লার প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্বামী নাসির মোল্লা স্ত্রী সাদিয়া বেগমকে যৌতুকের টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু সাদিয়ার পরিবার অতি দরিদ্র হওয়ায় দাবিকৃত ওই যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। এতে করে যৌতুক লোভী স্বামী নাসির মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে সাদিয়ার দু’চোখ উৎপাটনের চেষ্টাসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। পরে খবর পেয়ে উপজেলার ডাসার থানা পুলিশের সহযোগীতায় নির্যাতিতার পরিবার গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত সাদিয়ার মা পারভীন বেগম বাদী হয়ে স্বামী নাসির মোল্লাসহ ৮জনকে আসামী করে ডাসার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন পালাতক রয়েছে।

মামলার বাদী পরভীন বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়ে জামাই নাসিরের দাবীকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে দিনের পর দিন প্রচন্ড মারধর করে। এবং তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার মেয়ের দু’চোখ উৎপাটনের চেষ্টা করে। তাই আমি তাদের নামে মামলা করেছি। 

এ বিষয় অভিযুক্ত নাসির মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলার ডাসার থানার এসআই  মোঃ রিপন মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই গৃহ বধুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। এবং নির্যাতনের বিষয় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।