Opu Hasnat

আজ ১৭ এপ্রিল শনিবার ২০২১,

জাতীর প্রয়োজনে সংকটে সমাজের ভালোর জন্য জীবন উৎসর্গ করে একমাত্র পুলিশ রাজবাড়ী

জাতীর প্রয়োজনে সংকটে সমাজের ভালোর জন্য জীবন উৎসর্গ করে একমাত্র পুলিশ

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেছেন, জাতীর প্রয়োজনে, সংকটে, সমাজের ভালোর জন্য জীবন উৎসর্গ করে পুলিশ। পুলিশের মতো এত বড় ত্যাগ আর কেউ করে না। 

দেশের মানুষ সম্পদ জানমাল রক্ষা করতে গিয়ে আমরা আমাদের আপনজনকে ভুলে যাই। বাংলাদেশের কোন সার্ভিসে দেশের জন্য কর্তব্য করতে গিয়ে পুলিশের মতো এত ঝুকি কেউ নেয়না এত জীবনও কেউ দেয়নি। করোনাকালীন সময়েও ৮৬ জন পুলিশ সদস্য জীবন দিয়েছেন। যার মধ্যে একজন পুলিশ সুপারও ছিলেন। মহামারি করোনায় যখন আপনজন প্রিয়জনকে ফেলে রেখেছে, ভয়ে তাকে স্পর্শ করেনি পুলিশ কিন্তুু ঠিকই  তাদের পাশে দারিয়েছে। খাদ্য সহায়তাসহ সকল প্রকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। 

পুলিশ সুপার কর্তব্যকালীন সময়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের বাবা দেশের জন্য কাজ করেছেন। দেশ তোমাদের সম্মান করবে। তোমরা কখনই মনে করো না তোমার বাবা নেই। আমরা তোমাদের পাশে থাকবো। প্রতিটি ভালো কাজে তোমাদের আগলে রাখবো। তোমরা একা নও। তুমি যেখানেই যাবে বাবার পরিচয় দিলে তোমার পাশে বাংলাদেশ পুলিশ দারাবে। 

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আজকে আমরা যাদের স্মরন করছি আমরা সবাই এই পথে যাত্রি। দুই দিন আগে আর দুইদিন পরে। আমাদের স্বপ্ন পুরন করবে তোমরা। না বলা কথাগুলো, বেদনাগুলো, অধরা স্বপ্নগুলো তোমাদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। বিকশিত হবে প্রকাশিত হবে। অতএব হাল ছেড়ো না। তাই স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

সোমবার সকালে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরনে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন অনুষ্ঠানে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান এসব কথা বলেন।

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে রাজবাড়ীর পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান।

পরে পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উজ্জামান, সিআইডি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খায়রুল আমীন, রাজবাড়ীর ডিআইও-১ মোঃ সাইদুজ্জামান, কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যর স্ত্রী সাজেদা পররভীন, রোকেয়া বেগম, নিহত পুলিশ সদস্যর সন্তান সৌরভ বক্ততা করেন। 

আলোচনা সভা শেষে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত রাজবাড়ীর ১১ জন পুলিশ সদস্যের পরিবারের হাতে ফুল ও সম্মাননা উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে কর্তব্যরত অবস্থা নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরনে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।