Opu Hasnat

আজ ৯ মার্চ মঙ্গলবার ২০২১,

বোয়ালমারীতে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ফরিদপুর

বোয়ালমারীতে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পরমেশ্বর্দী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা মুকুলের নির্দেশে প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামে এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গ্রামটিতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার এবং ৫ নং পরমেশ্বর্দী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. সাঈদ শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
সম্প্রতি রবি-ফসল কলাই চুরি নিয়ে ফের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে দুটি পক্ষ। যার জের ধরে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা ও সাঈদ শেখ গ্রামটিতে উপস্থিত থেকে প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশারের অনুসারীদের উপর অতর্কিতে হামলার নির্দেশ দেন। এ সময় হাবিবুর রহমান মিয়া (হবি ফকির) ও সৈয়দ ওমর আলীর লোকজন সাঈদ শেখের অনুসারীদের সাথে যোগ দিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। অতর্কিত এ হামলায় বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে যায় বাসিন্দারা। এ সময় দামি আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন রবি ফসল, গবাদি পশু লুটপাট করে নিয়ে যায় চেয়ারম্যান মুকুল মিনার অনুসারীরা। এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা অন্তত ২০টি বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুর করে এবং নলকূপ খুলে নিয়ে যায়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

জয়পাশা গ্রামের নান্নু মোল্যার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৫৫) বলেন, চেয়ারম্যান মুকুল মিনা হামলাকারীদের দশ মিনিটের মধ্যে ভাংচুর শেষ করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর হামলাকারীরা ভাংচুর চালায়।

এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুর রহমান বাশার বলেন, ঘটনা আঁচ করতে পেরে ভোর ৪টার দিকে বোয়ালমারী থানা ইন চার্জ, পার্শ্ববর্তী ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ি ইন চার্জ এবং ট্রিপল থ্রিতে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানোর পরেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ করব না। 

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আমার নির্দেশে হামলা হয়েছে-এ অভিযোগ সত্য নয়। প্রতিপক্ষ একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন এ ব্যাপারে অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম বলেন, সৈয়দ আবদুর রহমান আগে আমাকে ফোন দেননি। যখন সংঘর্ষ ঘটে তখন আমাকে ফোন দেন। আমি সাথে সাথেই পুলিশ ফোর্স পাঠাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।