Opu Hasnat

আজ ৫ মার্চ শুক্রবার ২০২১,

দামুড়হুদায় শুরু হয়েছে মরুর প্রাণী দুম্বার চাষ কৃষি সংবাদচুয়াডাঙ্গা

দামুড়হুদায় শুরু হয়েছে মরুর প্রাণী দুম্বার চাষ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামে শুরু হয়েছে মরুর প্রাণী দুম্বার চাষ। সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে যার বেশি বসবাস। ওয়েভ ফাউন্ডেশন পরিচালিত এই খামারে ছোট্র কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করে সেখানে মিনি একটি খামার করে লালন-পালন করা হচ্ছে দুম্বা। এলাকার আওহাওয়া দুম্বা পালনে অনুকূল হওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামে রয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৪০/৪২বিঘা জমির উপর একটি বিশাল খামার। এই খামারে ছাগল, মুরগি পালনসহ রয়েছে হ্যাচারি ও। এই খামারে ২০১৯সালে সংযোজন করা হয় দুম্বা। তৈরী করা হয় মরুভুমির আদলে কৃত্রিম মরুভূমি। পরে ঐ বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকার সাদেক এগ্রো থেকে আয়োশি ও রেড মাসাই জাতের ৬টি দুম্বা ক্রয় করে আনা হয়। এর মধ্যে একটি মর্দা এবং ৫টি মাদি দুম্বায় মোট খরচ পড়ে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে ৪টি দুম্বা শাবক। সুস্থ্যতার সাথে দিনদিন বেড়ে উঠেছে এসব শাবক। সবুজ ঘাস, খড়, গম, ভুট্টা, ছোলা, গাছের পাতা খেয়েই প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে এসকল দুম্বা।

খামার সহায়ক মনোয়ার হোসেন বলেন, দুম্বা মরুভূমি পছন্দ করে। তাই এখানে ছোট্র পরিসরে কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাদি দুম্বাগুলো ৪টি বাচ্চা দিয়েছে। সুস্থ্যতার সাথে দিনদিন বেড়ে উঠেছে তারা। বাচ্চা দিয়ে মোট দুম্বার সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০টি। গমের ভূষি, চালের কুড়া, ভুট্টা ভাঙা, সরিষার খৈল, চিটাগুড়, খড়, মাল্টিভিটামিনসহ বিভিন্ন খাদ্য একত্রে মিশিয়ে তাদের তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। এছাড়াও সবুজ ঘাস, কাঁঠাল পাতা তাদের পছন্দ। ছাগল ভেড়ার মতোই লালন-পালন করা হয় এসকল দুম্বা। 

খামার সহকারী সমন্বয়কারী ডা. তুহিন মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় দুম্বার খামার নতুন। তবে দেশের অন্যান্য স্থানে কমবেশি যারাই দুম্বা পালন করছেন, কেউই লোকসানে নেই। কারণ ছাগল ভেড়ার মতোই দুম্বা লালন-পালন করা যায়। বংশও বৃদ্ধি করে ছাগল ভেড়ার মতোই। আবহাওয়া, খাবার, চিকিৎসাতেও নেই সমস্যা। একটু সতর্ক থাকলে তার ঠান্ডা লাগা রোগ এড়ানো সম্ভব। তিন থেকে চার বছরে পরিণত হয় একটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বা। তখন ওজন হয় ১০০ থেকে ১২০ কেজি পর্যন্ত। দাম হতে পারে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। কোরবানির সময় সৃষ্টি হয় এর প্রচুর চাহিদা।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, দুম্বা ও ভেড়া কাছাকাছি প্রাণী। দুম্বা মরুর প্রাণী হলেও এটি একটি সহনশীল প্রাণী। দেখতে ভেড়ার মতো তবে পেছনের অংশ ভারি। ভেড়ার মতোই দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। মাংস উৎপাদনে এগিয়ে ছাগল ভেড়ার চেয়ে। অর্থনীতিক দিক দিয়ে ছাগল ভেড়ার চেয়ে দুম্বা পালন লাভজনক। কোরবানির সময় থাকে প্রচুর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। আমাদের এই পরিবেশে দুম্বা পালনে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তাই এই খাতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।