Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

‘চিকিৎসক ও নার্স সংকট’

গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যহত স্বাস্থ্যসেবারাজবাড়ী

গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যহত

চিকিৎসক ও নার্স সংকটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার দরিদ্র মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় নার্স না থাকায় ভর্তি রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে ১০টি কনসালটেন্টের পদ থাকলে কর্মরত আছেন মাত্র ১জন, মেডিকেল অফিসারের ১৪টি পদের বিপরীতে ১১ জন কাজ করছেন এবং ১৪টি নার্সের পদ থাকলেও পদায়ন আছেন ৭জন। দুইজন প্রেষণে অন্যত্র কাজ করেন। ফলে হাসপালাতে নারী-পুরুষ মিলে চারটি ওয়ার্ড থাকলেও ২৪ ঘন্টা প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ জন করে নার্স দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে এ হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ছাড়াও সার্জারী, মেডিসিন, চক্ষু, শিশু, নাক-কান- গলা ও এ্যানেসথেসিয়া বিষয়ের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদগুলো শুন্য রয়েছে। সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আল আজাদ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর যোগদানের ১০ দিন পর অন্যত্র বদলি হন। এরপর থেকে এখনো পদটি শূন্য রয়েছে। চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইউনুস আলী মোল্যা ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই থেকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রেষণে আছেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস ২০১০ সালের ৯ আগস্ট থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে আছেন। ডেন্টাল সার্জন ডা. শামীমুর রহমান ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেষণে চলে যান। চলতি বছরের শুরুর দিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. ফারজানা ইসলাম যোগদান করলেও গত ২৩ জুন তিনি ঢাকার রেলওয়ে হাসপাতালে প্রেষণ নিয়ে চলে যান। এছাড়া এ হাসপাতালের একমাত্র এক্সরে টেকনিশিয়ান এ বছরের প্রথম দিকে অবসরে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

এ সকল বিষয়ের রোগীরা প্রতিনিয়ত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সামর্থবানরা অন্যত্র চিকিৎসা নিতে পারলেও দরিদ্র রোগীরা পড়ছেন বিপাকে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারটি ৩ বছর ধরে তালাবদ্ধ হয়ে আছে। সেখানে কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে চলেছে। 

এদিকে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে হাসপাতালে নতুন ৩টি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মান করা হলেও চিকিৎসক ও সহকারীরা সেখানে থাকছেন না বলে জানা গেছে। ফাঁকা থাকা এ সকল আবাসিক ভবনে মাদকসেবীরা আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহার করছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এ ভবনে মাদক সেবনরত অবস্থায় দুই তরুণকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ ঘোষ ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে ৫ দিন করে কারাদন্ড প্রদান করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালমা সিদ্দিকা বলেন, ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদ শুন্য থাকলেও বিদ্যমান ডাক্তার দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু নার্স সংকটের বিষয়টি চালিয়ে নেয় বর্তমানে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পদগুলো পুরনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।