Opu Hasnat

আজ ১৮ জানুয়ারী সোমবার ২০২১,

পরীক্ষার আগেই প্রার্থী চুড়ান্ত! মানিকগঞ্জ

পরীক্ষার আগেই প্রার্থী চুড়ান্ত!

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চাপরাইল মজির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি লাইব্রেরীয়ান ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে ওই স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে কানাঘুষা। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রার্থী যাচাই স্বচ্ছতার সাথে হবে বলে জোর দিয়ে বলেছেন।

জানা গেছে, স্কুলটিতে দু’টি শুন্যপদে গত ৩ ডিসেম্বর একটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়ে দরখাস্ত আহবান করা হয়। এতে সহকারি লাইব্রেরীয়ান পদে ১৪ ও অফিস সহায়ক পদে ৪ টি আবেদন জমা পড়ে। সূত্র জানায়, দু’টি পদের মধ্যে সহকারি লাইব্রেরীয়ান পদে আব্দুর রাজ্জাকের নাম চুড়ান্ত করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। অপরদিকে, অফিস সহায়ক নিয়োগে মোঃ রাকিবুল ইসলামের নাম চুড়ান্ত করা হয়েছে। তিনিও সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ২-৩ বছর যাবত কর্মরত আছেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী শনিবার (১৬ জানুয়ারি) নিয়োগ পরিক্ষার দিন ধার্য্য রয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত দিনে নিয়োগ পরীক্ষা লোক দেখানো মাত্র। নিয়োগ কমিটিতে থাকা একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি আর্থিক সুবিধা নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও রাকিবুল ইসলামের নাম চুড়ান্ত করে রেখেছেন। কমিটির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া ফরমালিটি মাত্র। 

পরীক্ষার আগেই নিয়োগ চুড়ান্ত হওয়া সম্ভ্যাব্য প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সার্কূলার হয়েছিল অ্যাপ্লাই করেছি। সবার জন্য যে রকম আমার বেলায় ও তাই। কতোদিন যাবত ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

মজির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্বাস উদ্দিন আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রার্থী চুড়ান্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আব্দুর রাজ্জাক খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আছেন। হয়তো তার প্রতি দু’একজনের সিমপ্যাথী থাকতে পারে। পরীক্ষা নিয়ে যাচাই করে সে যদি ওই পর্যায়ে আসতে পারে তাহলে আসবে নচেৎ না।

মজির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জি. একরাম উদ্দিন খাঁন (অমল মিয়া) বলেন, আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল স্কুলটি। আমি শুনেছি, একজন শিক্ষক ৪-৫ বছর যাবত ওই কাজটি করছেন। শর্টলিস্টে আছেন, সে যদি কমপ্লিটেড হয় তাহলে অগ্রাধিকার পাবেন। বেসিক জিনিস না থাকলে তো আর হবে না । কমিটির একাধিক ব্যক্তি আর্থিক সুবিধা গ্রহন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামান্য বিষয়ে স্কুলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে আমি রাজি নই। এ ধরনের কোনো কিছু হতে দিবেন না বলেও গ্যারান্টি দেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজ-উদ-দৌল্লাহ বলেন, ডিজির প্রতিনিধিত্ব কে করবেন তার চিঠি এখনো হাতে পাইনি। ১৬ জানুয়ারি আদৌ নিয়োগ কমিটি বসতে পারবেন কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। প্রধান শিক্ষক এ কাজে মানিকগঞ্জে দৌড়াদৌড়ি করছেন, আমার সাথে তার আলাপ হয়নি। তারা কি করতে চাচ্ছেন আমাকে জানায়নি। তিনি আরো বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ যে শতভাগ ফেয়ার হয় সে আমি দাবী করছি না। তবে কেউ আগে থেকে কাজ করলে মানবিক কারনে কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে নেয়।