Opu Hasnat

আজ ২৭ জানুয়ারী বুধবার ২০২১,

অসৌজন্যমূলক ভাষায় নোটিশ পেয়ে আমি হতবাক : মেজর হাফিজ রাজনীতি

অসৌজন্যমূলক ভাষায় নোটিশ পেয়ে আমি হতবাক : মেজর হাফিজ

অসৌজন্যমূলক ভাষায় অসত্য অভিযোগ সম্বলিত চিঠি পেয়ে হতবাক হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। বিএনপি’র পক্ষ থেকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব পাঠিয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বনানীতে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি তার দেওয়া জবাবের অনুলিপি দেন।

দায়িত্ব পালনে অপারগতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সম্পর্কিত কারণ দর্শাও নোটিশের চারপাতা জবাবে দল ও নিজের রাজনীতির বিষয়ে নানা কথা তুলে ধরেন এ মুক্তিযোাদ্ধা। 

তিনি বলেন, ‘একজন খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিজয়ের মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে অসৌজন্যমূলক ভাষায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে আমি হতবাক হয়েছি। ’

তিনি বলেন, ‘আমি বিগত ২৯ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিএনপিতে আমার যোগদানের তারিখ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার তারিখ, আমার নামের বানানসহ অনেক ভুলই রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে দৃশ্যমান। বিএনপিতে যোগদানের পূর্বেই আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। আমি বিগত ২২ বছর ধরে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে একজন যুগ্ম মহাসচিব (আদিষ্ট না হয়েও) এমন কঠিন, আক্রমণাত্মক ভাষায় কৈফিয়ত তলব করায় অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি। এখানে প্রটোকল ও সৌজন্যের ব্যত্যয় ঘটেছে। ব্যক্তি রুহুল কবির রিজভী একজন ভদ্র, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা, তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে, তার কাছ থেকে এ ধরনের চিঠি আশা করিনি। ’

দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কের জবাবে মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমাকে কখনও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ’

‘জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক পদের অফার অসুস্থতার জন্য গ্রহণ করতে পারিনি। আমার বর্তমান বয়স ৭৬ বছর ২ মাস, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি কিংবা স্থায়ী কমিটিতে আমার চাইতে বয়স্ক ব্যক্তির সংখ্যা চারের অধিক হবে না বলেই আমার ধারণা। ’

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত সভায় যোগদানের পূর্বেই পুলিশ আমাকে ঢাকা বিমানবন্দরে গ্রেফতার করে, একারণেই বরিশালে যেতে পারিনি। আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল বর্তমান সরকার। বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের মারাত্মক অভিযোগ দায়ের করার কথা আমার জানা নেই। এ মামলা ছাড়াও এক ডজন মামলায় আমি গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। ’

জবাবে শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমার বিনীত অনুরোধ আমার বক্তব্য স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হোক। বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে যদি দোষী সাব্যস্ত করা হয় আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছি। আমি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধা পোষণ করি। ’

গত ১৪ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয় দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশে জবাব দেওয়ার জন্য পাঁচদিন সময় দেওয়া হয়। পাঁচদিনের মধ্যেই তিনি এর জবাব দিলেন।