Opu Hasnat

আজ ২৭ জানুয়ারী বুধবার ২০২১,

গাজীপুরে মহাসড়কে হকার বসিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি! গাজীপুর

গাজীপুরে মহাসড়কে হকার বসিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি!

গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন জনাকীর্ণ বাসষ্ঠ্যান্ডে শতশত হকার বসিয়ে উচ্চ হারে চাঁদাবাজি করছে সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র। এরা চাঁদাবাজিতে ব্যবহার করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া। কোণাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুর বাসষ্ঠ্যান্ডে মহাসড়ক ঘেঁষে প্রতিদিন বসানো হচ্ছে ৪ থেকে ৫শত হকার। ক্ষুদ্র পুঁজির ছিন্নমূল এসব হকার চা, পিঠা, বাদাম, সব্জি, দেশী বিদেশী ফল, তৈরী শোষাক, জুতা, মোবাইল ফোনের এক্সেসরিজ, কসমেটিকসসহ নানারকম পন্য স্বল্প মু্ল্েযভ বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত এসব হকার দিনভর ক্ষুদ্র ব্যবসা করে হকার ভেদে প্রতিদিন ৫শত থেকে ১হাজার টাকা আয় করে। এ দিয়েই চলে তাদের সংসার। 

মহাসড়কের দু‘ধারে এক একজন হকারকে ২ থেকে ৩ ফুটের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসতেও দিতে হয় ১০ থেকে ২০হাজার টাকা পর্যন্ত। আর রাজনৈতিক দূর্বৃত্ত একটি চক্র অসহায় এসব হকারের কাছ থেকে প্রতিদিন আদায় করে থাকে লাখ লাখ টাকা। প্রতি শুক্রবারসহ জাতীয় দিবস, ঈদ-পূজা-পার্বনে আদায় করে থাকে অতিরিক্ত ৫/৬শত টাকা হারে। তাদের ইচ্ছামত ঘোষিত চাঁদার টাকা দেওয়ার পরও কয়েক মাস পর পর বেশী টাকা পেয়ে পূর্বের হকারকে উচ্ছেদ করে নতুন হকার বসানোর অভিযোগও করেছে অসহায় হকাররা। চাঁদা দিতে বিলম্ব করলে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ করেছে নাম পকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার।

কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক বাসষ্ট্যান্ডের শতাধিক হকারের মধ্য ১২ জন হকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় মাস্তান মাসুদ পারভেজ এবং হুমায়ুন কবীর ঐ বাসষ্ট্যান্ডে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করে থাকে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বাসষ্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ছাড়াও আশপাশের এলাকায় কেউ বাড়ি-জমি-দোকান ক্রয় বিক্রয় করলে চাঁদা দিতে হয় মাসুদ পারভেজকে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের স্থানীয় নেতা মাসুদ পারভেজ মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেনের ছোট ভাই। এসব পরিচয়ে নির্বিঘ্নে চাঁদাবাজি করছে মাসুদ। চাঁদাবাজিতে সে ব্যবহার করছে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের নামও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাসুদ পারভেজ মূলত: বেকার যুবক। অথচ গত ২/৩ বছরের মধ্যে সে নিজের নামে বিশাল কলোনী নির্মান করেছে। সেখান থেকেও এখন মাসে ১০/১২ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হয়। 

কালিয়াকৈর পৌরসভার সফিপুর বাজার বাসষ্ট্যান্ডে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মাঝখানে নির্মানাধীণ ফ্লাইওভারের নীচে প্রতিদিন হকার বসছে কমপক্ষে ২ থেকে আড়াইশ’ জন। যানজটপূর্ণ এই বাসষ্ট্যান্ডে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করছে নজরুল মেম্বার, সোহাগসহ কয়েক চাঁদাবাজ। নজরুল ইসলাম মেম্বার সফিপৃর পশ্চিমপাড়া এলাকার বখাটে যুবক। যখন যে দল সরকারে থাকে এই চক্রটি সেই দলের ছত্রছায়া ব্যবহার করে থাকে। এই চক্রটি কখনো হাট ইজারার নামে, কখনো হাইওয়ে পুলিশ, কখনো সড়ক বিভাগকে, আবার কখনো থানা পুলিশকে বখশিশ দেওয়ার নামে এসব চাঁদাবাজি করে থাকে। 

এ ব্যাপারে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

আর কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল আমিন জানান, মৌচাক, কোনাবাড়ি এলাকায় কোন হাট বাজার নেই।তবে, সফিপুর হাট স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে মহাসড়কের পার্শ্বের জমি ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ মহাসড়কের উপর হকার বসালে তা অবৈধ।

এদিকে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবড়ি বাসষ্ট্যান্ডে নির্মিত ১.২কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারের নীচে বসানো হয় হকার, পিকাপষ্ট্যান্ড আর মাদকের হাট। ফ্লাইওভার নির্মান শেষ হলেও নির্মানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মান আবর্জনা সরিয়ে না নেয়ার সুযোগে এসব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।