Opu Hasnat

আজ ২৭ নভেম্বর শুক্রবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

মানিকছড়ি পুলিশের তৎপরতায় ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার, আটক ২ খাগড়াছড়ি

মানিকছড়ি পুলিশের তৎপরতায় ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার, আটক ২

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় কর্ণেল বাগান হতে গত ৩০/১০/২০২০ খ্রি: রাত সাড়ে ৯টার দিকে মানিকছড়ি বাজারের ০৪ জন ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে তাদের কাছে থাকা নগদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, ৫টি মোবাইল ও ১টি পালসার মোটর সাইকেল  অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এ  ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা মানিকছড়ি থানায় ৩৯৪-ধারায় ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৩। মামলার ভার দেওয়া হয় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি:) আক্কাস আলীকে। 

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ঘটনার তিন সপ্তাহের মধ্যে মানিকছড়ি থানা পুলিশের চৌকস অফিসারদের সাহসিকতা ও দূরদর্শিতায় ছিনতাই ঘটনায় জড়িত দুই আসামি আটক এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে লুন্ঠিত মোটর সাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০শে অক্টোবর রাতে উপজেলার কর্নেল বাগান এলাকায় বাজার ফেরত ৪জন ব্যবসায়ীর গতিরোধ করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নগদ ১লক্ষ ৭০হাজার টাকা, একটি পালসার মোটর সাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার সাথে সাথে মানিকছড়ি থানা সার্কেল সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো: সাইফুল ইসলাম ও অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন ঘটনাস্থলের আশে-পাশে রাতভর অভিযান চালিয়ে খেলনা পিস্তলসহ তাৎক্ষণিক ২সন্দেহভাজনকে আটক করেন।

পরে ব্যবসায়ীরা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ছিনতাকারীদের আসামি করে মানিকছড়ি থানায় ৩৯৪ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৩,তারিখ ৩১.১০.২০২০খ্রি:। এরপর পুলিশের চৌকস সার্কেল অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম ও অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন মামলাটি তদন্তে এসআই মো: আক্কাছ আলীকে নিয়োগ করেন। এরপর হতে ওসি তদন্ত মো: আমজাদ হোসেন, এএসআই মিশন চৌধুরী ও এএসআই মাহবুব হাসান সম্পৃক্ত হয়ে ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা শুরু করেন।

দীর্ঘ ১৯দিন অভিযানে গত ১৮ই নভেম্বর ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই ছিনতাইকারী থুইসাচিং মারমা (১৯) ও মো: ফয়সাল আহম্মেদ (২৪)-কে আটক করতে সক্ষম হন এবং আটক ব্যক্তিদের তথ্যমতে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বৃন্দাবন নামক এলাকা থেকে লুন্ঠিত পালসার মোটর সাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

আটক ছিনতাইকারী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ধারায় ঘটনার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: আক্কাছ আলী। অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন জানান, ঘটনার পর বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো: সাইফুল ইসলাম সার্কেল)এর দিকনির্দেশনায় অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে যৌথ টিম গঠন করি এবং তাদের তৎপরতায় ছিনতাইকৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার এবং ঘটনায় সরাসরি জড়িত ২জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি মোবাইল গুলোও উদ্ধার করা যাবে।

মানিকছড়ি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মু: সাইফুল ইসলাম ও অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেনে’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে অত্র থানার বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিমের চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ এক মাসের অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৮ই নভেম্বর তারিখে ঘটনায় জড়িত ০২ আসামী থুইসাচিং মারমা (১৯) ও মো: ফয়সাল আহম্মেদকে আটক করা হয়। তাদের নিকট থেকে অত্র মামলার লুণ্ঠিত মোবাইল এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন বৃন্দাবন নামক স্থান থেকে লুণ্ঠিত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। আটকের পর আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মানিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন জানান, মামলাটি তদান্তাধীন রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ত সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকারী টিমের সদস্য ০১) আমির হোসেন, অফিসার ইনচার্জ, মানিকড়ি থানা। ০২) আমজাদ হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), মানিকছড়ি থানা। ০৩) এসআই (নি:)  আক্কাস আলী, (আইও), মানিকছড়ি থানা। ০৪) এএসআই (নি:)  মিশন চৌধুরী, মানিকছড়ি থানা। ০৫) এএসআই (নি:)  মাহবুব হাসান, মানিকছাড় থানা।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর