Opu Hasnat

আজ ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০২০,

খাগড়াছড়িতে সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাৎ, দুদকের মামলা খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাৎ,  দুদকের মামলা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের দুর্নীতির অভিযোগে তিনজনের (সাবেক কর্মচারী) বিরুদ্ধে দুদকের মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ রেজা মো: আলমগীর হাসানের বিশেষ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) সহকারী পরিচালক আবুল বাশার মামলাটি করেন।

২০১৭ সালের জুন মাসে জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা: আবদুস সালামের স্বাক্ষর জাল করে গাড়ি মেরামতের কার্যাদেশ প্রদান ও তিন চেকের বিপরীতে ১২লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দুদক।

দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল বাশার খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জাহেদ হোসেন, সাবেক হিসাব রক্ষক প্রিয় রঞ্জন বড়ুয়া, ঠিকাদার খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জসিম উদ্দিনকে আসামী করে মামলাটি বিশেষ জজ, জেলা ও দায়রা জজ রেজা মো: আলমগীর হাসান মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, জেলার সাবেক সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর জাল করে গাড়ি মেরামত প্রকল্পের প্রায় ১২লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করা এজহারের নথি ভুক্ত করেন। উক্ত ৩জন ব্যক্তি একে-অপরের যোগসাজসে তৎকালীন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা: মো: আবদুস সালামের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কার্যাদেশ সৃজন পূর্বক ৪টি গাড়ি মেরামতের বিল তৈরি করে ১১,৭২,৬২০ টাকা হতে আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১,৩১,৬৯৮ টাকা কর্তন করে অবশিষ্ট ১০,৪০,৭২২ টাকা আত্মসাৎ করে। 

যথাক্রমে মামলার আসারিরা হলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জাহেদ হোসেন, একই কার্যালয়ের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা প্রিয় রঞ্জন বড়ুয়া ও ঠিকাদার জসিম উদ্দিন।

যাহা দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭২ এবং ১৯৪৭সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২)ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭সালের জুন মাসে খাগড়াছড়ির সাবেক সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তিনটি গাড়ি মেরামতের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আসামিরা পারস্পারিক যোগসাজশে সাবেক সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালামের স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে দেওয়া হয়। সেই সূত্র ধরে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে দুদক মামলা দায়ের করে।

খাগড়াছড়ি জেলা দুনীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দায়রা জর্জ আদালতে অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার জানান, ১৯৪৭সনের দুনীতি প্রতিরোধ আইনে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর