Opu Hasnat

আজ ২৮ নভেম্বর শনিবার ২০২০,

রাজবাড়ীর বাগমারা জৌকুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের তিন বছরেও শেষ হয়নি কাজ রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর বাগমারা জৌকুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের তিন বছরেও শেষ হয়নি কাজ

রাজবাড়ীতে মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরন কাজ তিন বছরেও সম্পুর্ন না হওয়ার কারনে দুর্ভোগে দুটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। নির্ধারিত সময়ের পর দুই দফা সময় ও চুক্তিমুল্য বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। যে কারনে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। দ্রুত সময়ে মধ্যে কাজ শেষ করার দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে এলাকাবাসী। 

বুধবার সকালে বাগমারা জৌকুড়া আঞ্চলিক মহা সড়কের সুর্যনগর বাজার এলাকায় ওই মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করা হয়েছে। সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত চলা মানববন্ধন কর্মসুচীতে চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ফয়সাল আহম্মেদ চান্দু, চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রব, সহ সভাপতি আজম মন্ডল, রাজবাড়ী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক কাওসার ফেরদৌস বক্তৃতা করেন।

রাজবাড়ীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা মোড় থেকে জৌকুড়া ফেরিঘাট পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরন কাজটি শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে যা ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শেষ করার কথা ছিলো। এই কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত হয় ইসপেক্টা ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। 

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরো দু’দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সাথে চুক্তিমুল্য ২৯ কোটি থেকে বেড়ে দাড়ায় ৩১ কোটিতে। এরপরও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। 

বুধবার সকালে নির্মানাধীন ওই সড়কের বাগমারা এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, একটি খননযন্ত্র দিয়ে সড়কটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া তার দুই কিলোমিটার সামনে দয়াল নগর এলাকায় আরো একটি খনন যন্ত্র দিয়ে সড়ক বন্ধ করে রাখা হয়েছে। 

এ সময় চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ফয়সাল আহম্মেদ চান্দু বলেন,  তিন বছর যাবৎ রাস্তাটি খোড়াখুরি করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সামান্য বৃষ্টিতে খানাখন্দে বিপাকে পরেছে মিজানপুর ও চন্দনী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। এমনকি উত্তর মানুষ যারা জৌকুরা নাজিরগঞ্জ ঘাট ব্যাবহার করে তারাও পরেছে চরম দুর্ভোগে। 

চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আজম মন্ডল বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একদিন কাজ করলে ৭ দিন বন্ধ রাখেন কাজ। যে কারনে এই এলাকা থেকে রাজবাড়ী শহরে যেতে ভারা লাগছে কয়েকগুন। বেরেছে পন্য পরিবহন খরচও। এছারাও সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হচ্ছে অসুস্থ্য রোগী পরিবহনে। যতটুকুও কাজ হয়েছে চলাচলে বাধা হিসেবে সড়কের মাঝখানে রেখে দেওয়া হয়েছে দুটি খনন যন্ত্র যে কারনে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রব বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা জিম্মি। বাধ্য হয়েই আমরা মানববন্ধনে নেমেছি। এতেও কাজ না হলে আমরা রাজবাড়ীর সড়ক বিভাগ ঘেরাও কর্মসুচীতে যাবো।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসপেক্টা ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন বলেন, সড়কটি নির্মান করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্থ্য হতে হয়েছে। তাছারা ওই সড়কে দশ চাকা ট্রাক চলে রাস্তার ব্যপক ক্ষতি করেছে। তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করা হবে।

আর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) রাজবাড়ীর  নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন জানান, এই কাজটির সাড়ে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটার কাজ শেষের দিকে। বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। সময়সীমা বাড়িয়ে নিদির্ষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তাছারাও কাজের ডিজাইন ও মান নিয়ে যে সমস্যা ছিলো তার আর নেই। আশা করা যাচ্ছে বর্ধিত সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজটি সমাপ্ত হবে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর