Opu Hasnat

আজ ২৮ নভেম্বর শনিবার ২০২০,

ছাতকে দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম, অত:পর ধষর্ণের অভিযোগ সুনামগঞ্জ

ছাতকে দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম, অত:পর ধষর্ণের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের ছাতকে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় আসক্ত এক প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে (২২ অক্টোবর) উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ভবনের ছাদে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রোববার (২৫ আক্টোবর) ধর্ষক শাহ আলমকে নিজ বাড়ী তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে মঈনপুর গ্রামের মৃত মাছিম খানের ছেলে। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই নারী দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমউিনিটি মেডিকেল অফিসার মো. সাজির উদ্দিন ও ভিজিটির সায়েরা বেগম মুক্তার বাসায় মাঝে মধ্যে ঝিয়ের কাজ করে থাকেন। ধর্ষক শাহ আলমের বাড়ী ভিকটিম নারীর নিকটবর্তী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসা যাওয়ার সময় তাদের কথা বার্তা হয়। প্রায় এক বছর আগে দু’জনের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্ত ভিকটিম নারী সবসময় পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন। ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রী শিপা বেগম ও ভিকটিম নারীর মধ্যে কয়েকবার কথা কাটা-কাটি হয়। সর্বশেষ ঘটনার দুইদিন আগে ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রীর নিকট প্রমান চান ভিকটিম ওই নারী। এতে ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রীর মুঠোফোনে ধারণকৃত শাহ আলম ও ভিকটিম নারীর একান্ত কয়েকটি ছবি দেখানো হয়। ভিকটিম নারী ওই ছবিগুলো কৌশলে তার মুঠোফোন তুলে নিয়ে যান। এর পর ছবি দিয়ে নাটক সাজানো হয়েছে বলে ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রী শিপা বেগমের এ অভিযোগ।

এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভিকটিম নারী বাদী হয়ে শাহ আলমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ভিকটিম নারী বলেন, শাহ আলমের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ঘটনার সময় হাসপাতালের ছাদে কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে ছাদের উপরে সে যায়। একা পেয়ে সে আমার উপর অত্যাচার করে।

ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রী শিপা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে আমি ভাল করে জানি। তিনি এমন জগন্য কাজ করতে পারেন না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। 

দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমউিনিটি মেডিকেল অফিসার মো. সাজির উদ্দিন ও ভিজিটর সায়েরা বেগম মুক্তা বলেন, সরকারী আয়া না থাকায় ডেলিভারী রোগী আসলে আমাদের সহযোগীতার জন্য ও আমাদের বাসায় মাঝে মধ্যে পানি এনে দেয়। তবে আমাদের প্রয়োজনে ফোন করি তখন সে আসে। কিন্ত ঘটনার দিন ভিকটিম নারী  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ছিলেন না। 

এমএলএস এস লিপু তালকদার বলেন, ঘটনার দিন শাহ আলম নামে কাউকে বা ভিকটিম নারীকে কেন্দ্রে আসতে দেখিনি।

জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই পলাশ বলেন, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভিকটিমকে মেডিকেল পরিক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরন করা হয়েছে। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর