Opu Hasnat

আজ ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০২০,

গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ গাজীপুর

গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ

গাজীপুর জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল হলো শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জেলার মৃতদেহ ময়না তদন্তের একমাত্র হাসাপালও এটি।প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার রোগী ঐ হাসপাতালে চিৎিসা নিয়ে থাকেন। জনাকীর্ণ ঐ হাসপাতালের ভেতর কুকুর, বিড়ালের অবাধ বিচরণ ও উপদ্রবসহ নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ঐসব কুকুর, বিড়ালের ভয়ে সবসময়ই আতঙ্কিত থাকেন। ভুক্তভোগিরা জানান, হরহামেশা এসব চোখে পড়লেও প্রতিকারে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গত রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচ তলার টিকিট কাউন্টারের সামনে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুর ঘুর করছে। চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভয়ে কুকুরগুলো  এড়িয়ে দূর দিয়ে চলাচল করছেন। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের পুরনো ভবনের ভেতরে মহিলা ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় আরো একটি কুকুর সিড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠতে দেখা যায়। সেখানে কিছু সময় ঘুরা ঘুরি করার পর দোতলা থেকে নেমে আরএমও’র কক্ষের পেছেন শুয়ে পড়ে। কুকুরটির গালায় বড় একটি ক্ষত রয়েছে, যা পঁচে গিয়ে সেখান থেকে র্দূগন্ধ ছড়াচ্ছে এবং ক্ষতের চার পাশে মাছি ভ্যান ভ্যান করছে। কুকুরটিকে দেখে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে নাক চেপে ধরে দুরে দাড়িয়ে দেখছে।

একই দিন দুপুর একটার দিকে নতুন ভবনের তৃতীয় তলার প্রশাসনিক বিভাগে উঠতে গিয়ে দেখা যায় সিড়ির নিচতলা থেকে উপরের সব তলায় এবং সিঁড়িতে ময়লা জমে আছে। দোতলায় ক্যান্টিনের পশ্চিম পাশের দেয়ালে ও ছাদে মাকড়সার জাল ঝুলে রয়েছে যেন কয়েক মাস ধরে তাতে ঝাঁড়ুর স্পর্শ পড়েনি। তিনতলায় উঠে পরিচালক ও উপ-পরিচালক কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের স্টোর অফিসার মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান তারা ছুটিতে আছেন। তার কক্ষের পাশে সহকারি পরিচালকের কক্ষেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। পরে স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনকে ওই ভবনের নিচতলায় অবস্থান করা কুকুর ও ময়লা দেখানো হলে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মীকে ডেকে মৃদূ ভর্ৎসনা করে উপরে তার কক্ষে চলে যান।

তিন তলায় প্রায় আধাঘন্টা অফিস প্রধান মোঃ নাজমুল হক ও স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনদের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর নিচে নেমে আসার সময়ও ওইসব ময়লা এবং কুকুর সেখানেই দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা কতটা বেহাল, তা এই চিত্র থেকে ভালোভাবেই আঁচ করা যায়। এভাবে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী নানা অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন। অথচ হাসপাতালটি ঠিকাদারের মাধ্যমে ৯০ জন আউট সোসিং কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে ৩৮ জন এবং নিরাপত্তা প্রহরী ৯ জন। ঠিকাদার প্রতিটি কর্মীর মাসিক বেতন বাবদ ১৬৬২০ টাকা করে বিল তুলে নেয়।

এছাড়াও ঠিকাদারকে বিলের ১০ পার্সেন্ট সার্ভিস চার্জ দেয় সরকার। অভিযোগ উঠেছে পর্যাপ্ত লোক নিয়োগ দেওয়া হলেও ঠিকাদার কম লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছে এবং কর্মীদের কাজের তদারকীও করে না। মাস শেষে পুরো ৯০ জনের বিল তুলে নিচ্ছে ঠিকই।

গাজীপুর মহানগরের যোগীতলা এলাকার সুমি বলেন, আমার ১৮ মাসের শিশুটির চিকিৎসা নিতে এসে (পুরাতন ভবনের নিচ তলার উত্তর পাশে) ৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হয়। সে কারণে আমি ৫দিন ধরে এ হাসপাতালে আছি। এই ক’দিনে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর বিছানায় কিংবা খাটের নিচে শুয়ে থাকে বিড়াল। সুযোগ পেলে রোগীদের খাবারের প্লেটের খাবারও খেয়ে ফেলছে। সময় সময় তারা বমি এবং প্রস্রাব ও করে দিচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে হাসপাতালের কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কেউ বিড়াল/কুকুর তাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখি নাই। অথচ বিড়াল ডিপথেরিয়াসহ অনেক রোগের জীবাণু বহন করে। কুকুর জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহন করে। তাছাড়া এসব কুকুর/বিড়াল হাসপাতালের উন্মূক্ত ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে ঘোরে। সেখান থেকে জীবাণু নিয়ে বিছানায় উঠে বা খাবারে মুখ দিয়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। এ ছাড়া বিড়ালের আঁচড় থেকেও রোগ হতে পারে।

হাসপাতালের যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকছে নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা। এমন সব অস্বাস্থ্যকর দৃশ্যের হরহামেশা দেখা মিলছে। তাদের অভিযোগ এত সুন্দর হাসপাতালটি দেখারও যেন কেউ নেই।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ খলিলুর রহমান জানান, ৫০০শয্যার এই হাসপাতালে ৩৬ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ৪২জন আনসার রয়েছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করাতে হচ্ছে। ফলে এ ক্ষেত্রে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। তবে বিড়াল-কুকুরে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের গাফিলতি রয়েছে। এ ব্যাপারে আনসার কমান্ডারকে শো’কজ করা হবে বলে জানান তিনি।