Opu Hasnat

আজ ২৮ নভেম্বর শনিবার ২০২০,

খাগড়াছড়িতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সমাপ্তি হয়েছে। চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৯টি উপজেলাতে শেষ হলো দুর্গাপূজা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি শহরের গঞ্জপাড়া এলাকা সংলগ্ন চেঙ্গী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। এর আগে বিভিন্ন মন্ডপ থেকে গাড়িতে করে একে একে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। এসময় এলাকার সনাতন ধর্মালম্বীরা একে অপরকে নাচে-গানে, রং মাখিয়ে অংশ গ্রহন করেছেন।

দুপুরের পর থেকে চেঙ্গী নদীর পাড়ে এক এক করে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা আসতে শুরু করে। একইভাবে ফেনী ও মাইনী নদীতেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিগত বছরগুলোতে পুজা মন্ডপের প্রতিমা একসাথে গাড়ি বহরে করে শহর প্রদক্ষিণ করা হলেও এবার করোনা ভাইরাসের কারণে তা হয়নি।

বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণেই সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী পরিবেশে এবার পার্বত্য জনপদ সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ৫৪টি পূজামন্ডপে সম্মিলিত শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব বির্সজন করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একে একে গন্জ পাড়াস্থ চেংগী নদীতে মহা ধুমধাম আয়োজনে এখানকার সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মালম্বীরা বির্সজন দিয়ে দুর্গাপূজা উৎসব পরিসমাপ্তি ঘটে। 

খাগড়াছড়ি জেলা ব্যাপী ‘শারদীয় দুর্গাপূজায়’ এবার দিগন্তের ঐ কাশবন পেরিয়ে দোলায় চড়ে, শিউলী ঢাকা পথে স্বপরিবারে মর্ত্যলোকে আসেন মহেশ্বরী-মহামায়া, সর্বকল্যাণদায়িনী, জগৎ জননী মা দুর্গা”। বৃষ্ঠিস্নাত মেঘাছন্ন আকাশে মাঝারী ও ভারী বৃষ্টিপাতে ধর্মীয় উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তারপরও তাদের মনে ধমীয় রীতি অনুযায়ী সবচেয়ে বড় উৎসব পালনে কোন বেঘাত ঘটেনি। এছাড়া করোনার বিধিনিষেধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্ঠমী, নবমী ও দশমীতে পূজা মন্ডপে দর্শনার্থী ও পূজারীরা আরাধনা করেছে মন্ডপে মন্ডপে। পরে দুপুরে দিকে পূজা উদযাপন কমিটির সিদ্ধান্ত মতে যার যার এলাকার পাশ্ববর্তী নদীতে বির্সজন করা হয়।

নারায়ন মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির স্বপন কুমার ভট্টচার্য বলেন, করোনার মহামারীতে অনাড়ম্বর পরিবেশ হলেও প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পেরে সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা  জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রশিদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনায় আমরা সরকারী বিধি নিষেধ মেনে সকলের সহযোগিতায় অনাড়ম্বর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন থেকে শুরু করে বিস্র্জন পর্যন্ত শান্তিপুর্নভাবে সমাপ্ত করতে পেরেছি। সদর উপজেলায় ২০টি পূজা মন্ডপে শান্তিপুর্নভাবে বির্সজন মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় লক্ষী নারায়ণ মন্দিরের দুর্গাপুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখর সেন জানান, আমরা ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত উৎসব আয়োজন করেছি। ছিলনা কোন আলোচনা সভা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ বছর খাগড়াছড়িতে ৫৪টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুজাকে ঘিরে জোরদার ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ বছর দেবী দুর্গা এসেছেন দোলনায় চড়ে। যাবেন হাতির পিঠে চড়ে।

মাটিরাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন : মহাদশমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচ দিনের মিলন মেলা। দুর্গার বিদায় উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন পুজা মন্ডপে বেজে উঠে বিদায়ের সুর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পূজারী ও ভক্তরা জড়ো হতে শুরু করেন ধরিয়া খালের চৌধুরী ঘাটে। এসময় ‘জয়, দুর্গা মায়ের জয়’ বলে একের পর এক প্রতিমা ভাসিয়ে দেওয়া হয় ধলিয়া খালে। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলী জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জনে পুলিশ সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর