Opu Hasnat

আজ ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০২০,

চরভদ্রাসন উপ-নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া কেন্দ্রে ইসির তদন্ত কমিটি ফরিদপুর

চরভদ্রাসন উপ-নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া কেন্দ্রে ইসির তদন্ত কমিটি

জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি ওই নির্বাচনের আলোচিত সেই চর অযোধ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন।

এ তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন-নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার সাহা।

সদস্য সচিব হলেন-নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মো. শায়েদুন্নবী চৌধুরী এবং সদস্য হলেন ঢাকা নির্বাচন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নূরুজ্জামান তালুকদার।

গত বুধবার থেকে এই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে। প্রথম দিনে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কমিটি ফরিদপুর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ওই নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তদন্ত কমিটি চরভদ্রাসন উপজেলার আলোচিত সেই চর অযোধ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। সেখানে কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি তারা নির্বাচনে দ্বায়িত্বরতদের সাথে কথা বলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক অবস্থানের পর তারা চরভদ্রাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ফরিদপুর জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম তদন্ত কমিটির কাজ শুরুর সত্যতা নিশ্চিত সাংবাদিকদের বলেন, তারা চরভদ্রাসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, নির্বাচনে অংশ নেয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ, কেন্দ্রের নিয়োজিত পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্য ছাড়াও ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচনে দায়িত্বরত সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য শুনছেন।

তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়া ওই নির্বাচনের প্রার্থী ফয়সাল হাসান শাওন জানান, পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ওই নির্বাচনে যেভাবে জাল ভোট দিয়েছে তা বিষদভাবে তিনি তদন্ত কমিটির সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ও আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা নিয়ে তিনি নির্বাচনের আগে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তদন্ত কমিটির কাছে সে বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চরভদ্রাসনে এসে চর অযোধ্য স্কুল কেন্দ্রে যান। তারা চরভদ্রাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ছাড়াও আরো কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই উপজেলা উপনির্বাচন নিয়ে জাল ভোট প্রদান ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ ওঠে।

এর মধ্যে ভোটগ্রহণে চর অযোধ্যা স্কুল কেন্দ্রে ভোট চলাকালে বুথের সামনে ধূমপান ও জাল ভোট দেয়ার অপরাধে একজন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে সাময়িক সময়ের জন্য আটকের ঘটনায় পরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইলে ফোন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী গালিগালাজ, অশোভন আচরণ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়াও নির্বাচনের দিন ঘটে যাওয়া এসব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই এমপি নিক্সন বিজয় পরবর্তী সমাবেশে ফরিদপুর জেলা প্রশাসককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন বলেও অভিযোগ উঠে। 

নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন।

অবশ্য ওই মামলায় ইতোমধ্যে নিক্সন চৌধুরী উচ্চ আদালত হতে ৮ সপ্তাহের জামিন লাভ করেছেন। এছাড়া ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখার জন্য চরভদ্রাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নির্বাচন শুরুতেই স্থগিত করা হয়।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর