Opu Hasnat

আজ ২১ অক্টোবর বুধবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

যে নির্বাচনের ভোট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ফরিদপুর

যে নির্বাচনের ভোট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

গত ১০ অক্টোবর শনিবার অনুষ্ঠিত হয় চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন। নির্বাচনের দিন ভোট শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। এরপর ঘন্টা খানেক ভোটারবিহীন ভাবে ভোট শুরু হলেও ১১টার দিক থেকে শুরু হয় চরভদ্রাসন ইউনিয়নের আশেপাশের সেন্টার গুলোতে জাল ভোট দেওয়ার হিরিক। এসময় ভোট কক্ষে থাকা ভোট বাক্স সময় গড়ানোর সাথে সাথে ভরে উঠতে থাকে। আর একাজে মূল ভূমিকা পালন করেন নৌকা ও আনারসের এজেন্টরা কক্ষ গুলোর ভিতরে। যদিও আইন শৃংখলা বাহিনী দায়িত্বে থাকলেও না দেখার ভান ছিলো তাদের।       

ভোট চলাকালিন সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক প্রশ্ন ছুড়ে বলেন ভোটার বিহীন নির্বাচনে এতো ভোট দিলো কে? এসব ভোট কেন্দ্রে বিরাধী শিবিরের কোন এজেন্ট না থাকায় কাজটি অনেক সহজতর হয়ে উঠে বলে মনে করা হয়। 

বেলা ১১টার দিকে খবর আসে ভোট কেন্দ্র গুলোতে চরভদ্রাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার’শত জাল ভোট পাওয়া যাওয়ার কারনে ভোট কেন্দ্রটি স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাল ভোট দেওয়ার কারনে একটি কেন্দ্রে এক নৌকা মার্কার পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ নিক্সনের কাছে এ দুটি খবর যাওয়ার সাথে সাথে তিনি উত্তেজিত হয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট ও  ইউএনও এর সাথে কথা বলেন (যা পরবর্তী সময়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে দেশ জুড়ে)। 

নির্বাচনের সাথে জড়িতরা মনে করেন এই দুটি কারনে এমপি মহোদয় নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসেবে ম্যাজিষ্ট্রেটদের ভাবতে শুরু করে। যা তার মতো একজন সাংসদ ভাবনার মধ্যে আনাটাই একটি বোকামি বলে তারা মনে করেন। 

পরবর্তী সময়ে জাল ভোট দেওয়ার কারনে কয়েকজনকে আটক করা হলেও ছেড়ে দেয়া হয়। ধারনা করা হচ্ছে সাংসদের চাপের কারনে জাল ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ছেড়ে দেন নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা ম্যাজিষ্ট্রেটরা। 

বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রের কক্ষের বাইরে আটকে দেয়া হয়। তারপরেও জানলা দিয়ে কিছু চিত্র চোখে পড়ে। জাল ভোট দেওয়ার সময় সদরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫ জনের মতো আটক করা হয়। একই চিত্র বিরাজ করছিলো সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সেখানে আনোয়ার মোল্যার নেতৃত্বে ভোটার বিহীন অবস্থায় ভোট বাক্স সময় গড়ানোর সাথে সাথে ভরে উঠতে থাকে। ভোট কেন্দ্র গুলোর আশে পাশের অনেকের সাথে কথা হলেও তারা ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। উত্তর আলম নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেওয়ার সময় দুজনকে হাতে নাতে আটক করা হলেও পড়ে ছেড়ে দেয়া হয়।    

নির্বাচনে নৌকা মার্কার মোঃ কাওছার ১৬৫২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ঘোড়া প্রতিকের কে এম ওবায়দুর বারী দিপু। তিনি পান ৫৩৪৬ ভোট। 

সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা ছাড়াও নৌকা সমর্থক প্রার্থীর এজেন্টরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সামনেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরতে দেখা গেছে। সাংবাদিকেরা এসব কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাদের কেও বাধা দেয়া হয় পেশাগত দায়িত্বপালনে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হলেও কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি। আলোচনা মূখর এই নির্বাচন এখন সারাদেশের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে। যদিও নির্বাচনে সাংসদের পছন্দের প্রার্থীর বিজয়ী হয় বিপুল ভোটের ব্যাবধানে।