Opu Hasnat

আজ ২৫ অক্টোবর রবিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

চার বছর পর আজ আবারো ফুটবলের ভোটযুদ্ধ খেলাধুলা

চার বছর পর আজ আবারো ফুটবলের ভোটযুদ্ধ

চার বছর পর আজ আবারো ফুটবলের ভোটযুদ্ধ। ২০১৬ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন কাজী সালাহ্উদ্দিন ‘‘এটা আমার শেষ নির্বাচন’। দুই বছর যেতে না যেতেই সুর পাল্টিয়ে বাফুফের সভাপতির ঘোষণা, ‘আমি আবার নির্বাচন করবো।’ কেন? ‘ফুটবলকে এখনও দেয়ার অনেক কিছু আছে।’

এক যুগ বাফুফের সভাপতি পদে থাকা কাজী সালাহ্উদ্দিন আজ আবারো নির্বাচনের মঞ্চে। দেশের ফুটবল সংস্থা বাফুফের সভাপতি পদে লড়ছেন হেভিওয়েট কাজী সালাহ্উদ্দিন ও সাবেক ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। সভাপতি পদে মনোনয়ন কেনা আরেক প্রার্থী বাদল রায় অবশ্য নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আগেই।

বার্ষিক সাধারণ সভার পর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সামনের চার বছরের জন্য ১৩৯ জন কাউন্সিলর তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ঠিক করবেন। নির্বাহী কমিটির ২১ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন ৪৭ প্রার্থী। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ২, সহ-সভাপতি পদে ৮ আর সদস্য পদে ৩৪ জন প্রার্থীর নির্বাচনে লড়বেন।

সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আবদুস সালাম মুর্শেদীকে ভোটের ময়দানে লড়তে হবে সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মো.আসলামের সঙ্গে। চার সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আটজন। তারা হলেন- মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, তাবিথ আউয়াল, শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, এসএম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, কাজী নাবিল আহমেদ, আমিরুল ইসলাম বাবু, আতাউর রহমান ভূঁইয়া ও ইমরুল হাসান।

২০০৮ সালের এপ্রিলে প্রথমবার বাফুফে সভাপতি হন কাজী সালাহ্উদ্দিন। বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৮৭ তে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর মে মাসে ১৯৭ তে নেমে গিয়েছিল লাল-সবুজরা। ১২ বছর আগে সালাহ্উদ্দিন যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন বাংলাদেশের ফিফা র‌্যাংকিং ছিল ১৫০-এর নিচে। এরপর ধারাবাহিকভাবেই অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের।

সালাহ্উদ্দিনের এক যুগে ফুটবলে উন্নতির থেকে অবনতি হয়েছে বেশি। এজন্য দেশের ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রকে নিয়ে হয়েছে প্রবল সমালোচনা। সেসব নিয়ে কাজী সালাহ্উদ্দিন মাথা ঘামিয়েছেন সামান্যই। 

ফুটবলের বেহাল দশার কারণ সাধারণ মানুষ ‘সালাউদ্দিন হাটাও’ এবং ‘বয়কট সালাউদ্দিন’ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘সালাউদ্দিন হাটাও’ এবং ‘বয়কট সালাউদ্দিন’ পোস্ট করেন। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হয়েছে প্রতিবাদ। সেসব মাথায় নিয়ে এবার চতুর্থবার নির্বাচনে সালাহ্উদ্দিন।

পুরোনো ব্যর্থতা ঝেরে সামনে তাকিয়ে সালাহ্উদ্দিন। এজন্য ৩৬ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সালাহ্উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। এবার বুঝেশুনে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কিংবা বড় কোনো আশা না দেখিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উন্নতির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা। জাতীয় ফুটবল দলকে ১৫০-এর কাছাকাছি এবং মহিলা ফুটবল দলকে ৯০ এর কাছাকাছি উন্নীত করা।’

সালাহ্উদ্দিনের জবাবে ‘ভিশন-২০৩৩’ ব্যানারে ২১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেন আরেক সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক। শফিকুল ইসলাম তৃণমূলের ফুটবলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। জেলা ফুটবল ও ঢাকার সবচেয়ে জুনিয়র স্তরের ফুটবল পাইওনিয়ার লিগ থেকে প্রিমিয়ার পর্যন্ত লিগ টুর্নামেন্টকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় দলের জন্যও আছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

সভাপতি পদে দুইজনের লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়াক আর নাই ছড়াক, বাকি পদগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সালাহ্উদ্দিন-মুর্শিদির সম্মিলিত পরিষদের বিরুদ্ধে ১৯ সদস্যের প্যানেল গঠন করেছে জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বিত পরিষদ। সভাপতি পদে কে বসছে তা নিয়ে সমন্বিত পরিষদের আগ্রহ নেই। সভাপতির আশপাশে নিজেদের নীতিনির্ধারক চায় সমন্বিত পরিষদ। 

নিজেদের ইশতেহার ঘোষণার দিনে সমন্বয় পরিষদে যোগ দেয়া মহিউদ্দিন আহমেদ মহি বলেন, ‘বাফুফের সভাপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন। সেখানে সব সিদ্ধান্তই নির্বাহী কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নিয়ে পাস হয়। তাই আমাদের প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী না থাকলেও সমস্যা নেই। আমাদের এই প্রার্থীরা পাস করলে আমাদের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু হবে না।’ 

দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব আগামী চার বছরের জন্য কাদের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে আজ ভোট দেবেন ১৩৯ জন কাউন্সিলর।