Opu Hasnat

আজ ২১ অক্টোবর বুধবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

খাগড়াছড়িতে গণধর্ষণের ঘটনায় কোন সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছিল না : ডিআইজি খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে গণধর্ষণের ঘটনায় কোন সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছিল না : ডিআইজি

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো: আনোয়ার হোসেন বলেছেন, জেলাতে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় কোন সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছিল কি না। তিনি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, অপরাধীদের কোন পরিচয় নেই। তাদের পরিচয় তারা অপরাধী। তাদের কোন জাত নেই। পুলিশ সে বিবেচনা মাথায় রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকাতি ও গণধর্ষণের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে। তিনি কোন কোন মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাটে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন। খাগড়াছড়িতে একটি পাহাড়ি বাড়িতে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় ৯জন পেশাদার ডাকাত অংশ নেয় এবং ডাকাতি ও একই সাথে ধর্ষণ তাদের উদ্দেশ্যে ছিল বলে জানান খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো: আব্দুল আজিজ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিং করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ও খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো: আব্দুল আজিজ।

সংবাদ সম্মেলনে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ জানান, ওই বাড়িতে ডাকাতি ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নামে চুরি, ডাকাতি, মাদক ও ধর্ষণের ছয় থেকে সাতটি করে মামলা আছে। আসামিরা একসময় জেলহাজতে ছিলেন। সে সময় তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে জামিনে বের হয়ে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অপকর্ম করেন। গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ঘটনার পরপরই পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে জড়িত ৭জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রয়ের টাকা, লুণ্ঠিত টাকা এবং মোবাইলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্বার করা হয়। লুণ্ঠিত হওয়া ৮হাজার টাকার মধ্যে ৪হাজার ৯০০টাকা, একটি মুঠোফোন, একটি শাবল, দুটি ছুরি ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে পাওয়া ৪৮হাজার টাকা আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে।

ডাকাতি ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গণধর্ষণের শিকার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষার পর আদালতে ওই নারী ২২ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

এদিকে ওই তরুণীকে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে। তরুণীর মা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মেয়ে লোকজন দেখলেই ভয় পাচ্ছেন। কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ রশীদ বলেন, তরুণীর মা নয়জনকে আসামি করে ধর্ষণ ও ডাকাতির মামলা করেছেন। এরই মধ্যে অভিযুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ডাকাতির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় তরুণীর মা বাদী হয়ে সদর থানায় ধর্ষণ ও ডাকাতির অভিযোগে দুটি মামলা করেছেন।

এদিকে ঘটনার ২৪ঘন্টার মধ্যে প্রকৃত আসামীদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন অপরাধীর কোন জাত নেই। আইনের ফাঁকফোকরে যেন বেরিয়ে যেতে না পারে সেদিকে খেয়ার রাখারও আহবান জানান অনেকেই।

অপরদিকে খাগড়াছড়িতে ডাকাতি ও প্রতিবন্ধি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ৭আসামি অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ মো: আব্দুল আজিজ। তিনি সংঘটিত ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি বলেই দায়ীদের চিহিৃত করে ইতিমধ্যে ৭জনকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে। ডাকাতি ও প্রতিবন্ধি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ৭জন আসামি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ধারা জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, কোন কোন ডাকাত প্রতিবন্ধি নারীকে তিনবারও ধর্ষণ করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। অন্য আসামিদেরও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের অভিযান চলছে জানিয়ে বলেন, একাধিকবার ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলায় এরা গ্রেফতার হয়েছিল। ডাকাতি ও গণধর্ষণের সাথে জড়িতরা পরস্পরের সাথে জেল খানায় পরিচয় হয়। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর