Opu Hasnat

আজ ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে অতিবৃষ্টিতে মৌসুমী ফসল ও ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, শহরে মানুষেরও দুর্ভোগ নীলফামারী

সৈয়দপুরে অতিবৃষ্টিতে মৌসুমী ফসল ও ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, শহরে মানুষেরও দুর্ভোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে আমন ধানসহ মৌসুমী ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এনিয়ে দুঃচিন্তায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। শহরে মিস্ত্রিপাড়া, নীচু কলোনী, হাতিখানা, মাছুয়াপাড়া, বাঁশবাড়ি, কুন্দলসহ প্রায় মহল্লা ও বাসাবাড়িতে পানি উঠায়  দুর্ভোগে পড়েন শহরের মানুষরা। এমনকি হাতিখানা কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে যায়।

শহরে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রতিঘন্টায় ১ হাজার ৫শ' টাকা খরচ করে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পৌর পরিষদ। রেলের ডোবা-নালা বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও অবকাঠামো নির্মাণ করায় এ পরিস্থিতির শিকার হয় পৌরবাসী। 

উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে আমন ক্ষেত ও মৌসুমী ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। এ বছর উপজেলার কৃষকরা আমন ধানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাধা কপি, মূলা, পিঁয়াজ, মরিচ  রোপন করে পরিচর্যা করে আসছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমির ফসল আমন ধান, শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাধা কপি, মূলা, মরিচ পানিতে তলে যায়। ফলে এ উপজেলার কৃষকদের ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিনা বেগম জানান, চলতি বছর প্রায় ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে অতিবর্ষণে ৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আশাকরি, দ্রুত পানি নেরেম যাবে। 

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যা এ বছরে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। পানি উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, সৈয়দপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খড়খড়িয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা এ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধ। বাঁধ রক্ষার্থে ইতিমধ্যে দূর্বল স্থানে ১০০ জিও ব্যাগ বসানো হয়েছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র জিয়াউল হক জিয়া জানান, এ শহরের ৮০ ভাগ বসতবাড়ি রেলওয়ের। এ রেলের জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়ি নির্মান করায় পানি নিষ্কাষনের ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পৌর মেয়রের নির্দেশে দুর্গত এলাকায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। 

ঢাকায় চিকিৎসারত সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার মুঠোফোনে জানান, পানিবন্দি মানুষের পাশে পৌর পরিষদ রয়েছে। দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো ও রান্না করা খিচুরি বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে জানান পৌর মেয়র।