Opu Hasnat

আজ ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

দামুড়হুদায় ভিক্ষুকের বসত ঘর গুড়িয়ে দিল প্রতিপক্ষরা চুয়াডাঙ্গা

দামুড়হুদায় ভিক্ষুকের বসত ঘর গুড়িয়ে দিল প্রতিপক্ষরা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী হুদাপাড়া গ্রামে বিধবা ভিক্ষুক আবিছন বেগম (৬৫) এর  বসত ঘর ভেঙ্গে  গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।সেইসাথে জমিতে থাকা বাস ঝাড় কেটে দিয়েছে একই গ্রামের  প্রতিপক্ষ আজিম ফকিরের ছেলে আপেল উদ্দীন গং। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রার (২৫ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। মামলার বিষয় কিছুই জানেন না বিধবা ভিক্ষুক। ভিক্ষুকের সাথে এমন আচারনে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। 

আপেল উদ্দীন জানায়, হুদাপাড়া মৌজার এস এ ৯৬৩ ও আর এস ৮৯৯ দাগের তার ৫৬ শতক জমির মধ্যে ২৫ শতক জমিতে আবিছন বেগম ৩০/৪০বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। বারবার জমি ছেড়ে দিতে বললে সে কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২০ সালের প্রথম দিকে আপেল ঐ জমি থেকে ভিক্ষুককে উচ্ছেদ করার জন্য আদালতে মামলা করে। গত ২২ শে সেপ্টেম্বর মামলার রায় আপেলের পক্ষে আসে। গত শুক্রবার দুপুরের দিকে আদালতের পক্ষ থেকে উক্ত জমি আপেলের বলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে বাসগাড়ি করে লাল পতাকা টানিয়ে দেয় আদলতের পক্ষ থেকে।পতাকা টানিয়ে দিয়ে তারা চলে যাওয়ার পরপরই আপেলসহ ১৪/১৫জন মিলে জমিতে থাকা ভিক্ষুকের মাটির বসত ঘর,রান্নাঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় ও জমির বাসের ঝাড় কেটে উজাড় করে দেই। আপেল আরো বলেন, আদালতের নির্দেশনায় বাসগাড়ি করতে আসেন তারাই ঘর ভেঙ্গে বাস ঝাড় কেটে দিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। 

বিভক্ষুকের  এই ভাবে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ঐ গ্রামের সাধারন মানুষ।এমন অমানুবিক কাজের জন্য গ্রামবাসি গ্রাধিক্কার জানায় আপেলকে। 

স্থানিয়রা জানান, বাসগাড়ি করতে এসে তারা শুধু মাত্র ঢোল ডগর বাজিয়ে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়। তারা চলে যাওয়ার পরপরই আপেলসহ ১৪/১৫ জন এসে বসত ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। পরে তারা বাসঝাড় কেটে উজার করে দেয়।   

আবিছন বেগম বলেন, সে জমি কিনে খারিজ করে নিয়মিত খাজনা পাতি দিয়ে আসছি ও  প্রায় দীঘ ৪০/৫০  ধরে এখানে বসবাস করছি।আমি একজন অসহায় স্বামী হারা  মানুষ সে কোন মামলা হয়েছে কিনা জানেন না এযাবত তার নিকট কোন নোটিশ পর্যন্ত আসেনি। আমার স্বামী বেচে থাকা কালিন আমকে কেউ কিছু বলেনি। বছর পাচেক আগের আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আপেলরা আমার জমিতে এসে বিভিন্ন ধরনের অত্যচার করে। মামলার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে সদস্য একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ সহ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বলেন, মামলায় আপেলের পক্ষে রায় হলেও এই ভাবে একজন ভিক্ষকের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে দেওয়া ঠিক হয়নি।  

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, আবিছন বেগম নামে এক মহিলা অভিযোগ করেছে, ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর সব জানা যাবে।