Opu Hasnat

আজ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০২০,

খাগড়াছড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণ, অভিযুক্ত ৯ আসামী পলাতক খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণ, অভিযুক্ত ৯ আসামী পলাতক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সদর উপজেলায় জেলা আনসার-গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশিক্ষন কেন্দ্র সংলগ্ন বলপাইয়া আদাম/হাতি কবর এলাকায় এক আদিবাসী/পাহাড়ি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিমে পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ৯জন অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে জেলা শহরের খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে বলপাইয়া আদাম এলাকায় গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ভিকটিম ধর্ষিতা নারীকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, রাতে ডাকাতদল সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই নারীকে পাশের রুমে নিয়ে ডাকাত সদস্যরা ধর্ষণ করেন। এসময় তারা বাড়ির আলমিরা, ওয়ারড্রপ ঘেটে তিন ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন লুট করে বাইরে থেকে বাড়ির খিল লাগিয়ে পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গৃহকর্তীর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে। 

ওই বাড়ির মালিক বিন্দু লাল চাকমা বলেন, আমরা সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম। বাড়ির দরজা খোলার শব্দ শুনে আমার স্ত্রী এগিয়ে গেলে ততক্ষণে তারা ঘরে ঢুকে তার হাত-মুখ বেঁধে ফেলেন। বুধবার গভীর রাতে জেলা শহরের বলপাইয়া আদাম এলাকায় তার বাড়িতে ৯সদস্যের ডাকাত দল হানা দেয়। এক পর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যরা একটি কক্ষে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী (২৬) বেঁধে রেখে উপুর্যপরি ধর্ষণ করেছে। 

বিন্দু লাল চাকমার স্ত্রী পুষ্প রানী চাকমা জানান, তারা সংখ্যায় নয়জন ছিলেন। ডাকাতদলের সদস্যরা একটি কক্ষে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে হাত, পা ও মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে রেখে ধর্ষণ করেছে। তিনি আরো বলেন, ডাকাত দল আমার কানের দুল, আংটিসহ অন্তত ৩ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন সেট নিয়ে গেছে। ঘরের বাইরে থেকে দরজার হুক মেরে বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ডাকাত সদস্যরা চলে যান।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো: গোলাম আবছার বলেন, অজ্ঞাত নয়জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিমকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপরাধী যারাই হোক খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহ-সভাপতি নারী নেত্রী নমিতা চাকমা জানান, ঘুমন্ত পরিবারে রাতে-আধারে ডাকাতির মতো ঘটনায় প্রতিবন্ধীকে গনধর্ষন করা অত্যন্ত অমানবিকতা পরিচয় দিয়েছে। অপরাধীরা যারাই হোক না কেন যে কোন উপায়ে খুজে বের করে অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি পেতে হবে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চালিয়ে মোবাইল ট্রেকিংসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার আলামত খুজে অপরাধীদের ২৪ঘন্টার মধ্যে আটক করার জোর দাবী জানান।  

এদিকে এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো: আব্দুল আজিজ বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়ীদের গ্রেফতার করার নির্দেশনা দিয়েছি। তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হবে।  

এই বিভাগের অন্যান্য খবর