Opu Hasnat

আজ ৩১ অক্টোবর শনিবার ২০২০,

আ’লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. আইনুল হত্যা মামলার রায়ে হতাশা ও বিস্ময় নাটোর

আ’লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. আইনুল হত্যা মামলার রায়ে হতাশা ও বিস্ময়

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মাঝগাঁও  ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা: আইনুল হক হত্যা মামলার রায় নিয়ে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবারের সদস্যরা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার দুপুরে  উপজেলার আওয়ামীলীগের বনপাড়াস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

হত্যাকান্ডের ১৮ বছর পর গত সোমবার মুক্তিযোদ্ধা ডা. আইনুল হক হত্যা মামলার রায়ে দুইজনের ফাঁসি এবং ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বিএনপি'র  সশস্ত্র ১৭ জন নেতাকর্মী। এই রায়ে প্রকৃত দোষীরা সাজা না পেয়ে বেকসুর খালাস হওয়ায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

ডা: আইনুল হকের বড় ছেলে বনপাড়া পৌর মেয়র ও পৌর আ'লীগের সভাপতি কে এম জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০০২ সালের ২৮ মার্চ বনপাড়া সাহেব পাড়ার ডা. আনসারুল হকের চেম্বার থেকে পুত্রবধু নাজমা বেগম কে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওঠার সময় থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপির ১৭ নেতাকর্মী পিতা ডা. আইনুল হকের উপরে চড়াও হয়, এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হয় এবং পরের দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই দিনে ডা. আয়নুল হকের অনুসারী বনপাড়া, নটাবাড়ীয়া, কালিকাপুর, মহিষভাঙ্গা এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শতাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় সন্ত্রাসীরা। 

এই ঘটনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ২০০২ সালের ১৫ ই অক্টোবর ঘটনাস্থলে আসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা ডা: আইনুল হকের কবর জিয়ারত করেন।  এ সময় তিনি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র কেএম জাকির হোসেন আরও জানান, গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের যথার্থ বিচার প্রার্থনা করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডা. আইনুল হকের স্ত্রী জাহানারা বেগম, মামলার বাদী ও বড় পুত্রবধূ নাজমা বেগম, ছেলে কেএম জামিল হোসেন, কেএম জিল্লুর হোসেন জিন্না, মেয়ে আসমা হক শাপলা, জামাতা অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, বড়াইগ্রাম পৌর মেয়র আ. বারেক সরদার, উপজেলা আ'লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা,  জেলা পরিষদের সদস্য মৌটুসী আক্তার মুক্তা, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল হক সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাগণ, উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ,  ব্যবসায়ী ও সুধীসমাজ।