Opu Hasnat

আজ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০২০,

ছাতকে মন্দির ভাংচুর, দুর্গাপূজা উদযাপনে শঙ্কায় শতাধিক হিন্দু পরিবার সুনামগঞ্জ

ছাতকে মন্দির ভাংচুর, দুর্গাপূজা উদযাপনে শঙ্কায় শতাধিক হিন্দু পরিবার

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পৌরশহরে তাতিকোনা মহল্লায় গত ১০ মে মন্দির ভাংচুর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বসত বাড়ীতে হামলার ঘটনায় মামলা করে শঙ্কায় পড়েছেন বাদী ও তার পরিবারের লোকজন। মামলায় এজাহারভূক্ত আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও প্রশাসনিকভাবে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আসামীদের হুমকি ধামকীতে এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। 

গত মঙ্গলবার দুপুরে তাতিকোনা মহল্লার কালীমন্দির প্রাঙ্গনে একসভায় নিরাপত্তাহীনতা সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন। বক্তারা বলেন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একটি গোষ্ঠি কালী মন্দির ভাংচুর সহ সংখ্যালঘু পরিবারের বসত বাড়ীতে প্রবেশ করে নারী পুরুষদের উপর হামলা করে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এএসপি সার্কেল, ওসি সহ উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরদিন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জড়িতদের নাম উলে­খ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু আসামী গ্রেফতারে পুলিশের ভূমিকা না থাকায় বাদী পক্ষ সুবিচার পাওনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। 

বাদী পক্ষের লোকজনকে হুমকি দেয়ায় গত ১৪ জুন তাতিকোনা এলাকার পিপলু দাস থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে ১৭ জুন পিপলু দাস এবং একই ঘটনায় ১৮ জনু সন্টু দাস পৃথক দুটি জিডি করলেও আইনী কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় মামলার বাদী সহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলা সহ আসামীরা নেক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন। এমন নেক্কারজনক ঘটনার সুবিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়েছে বলে বক্তরা বলেন। 

এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আশংকা প্রকাশ করে বলেন- তাতিকোনা এলাকায় আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজা পালন করা নিয়ে আমরা শঙ্কিত রয়েছি। মামলার আসামী প্রভাবশালী গোষ্ঠির ভয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের অনেকেই বাড়ী ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি মানবেতর হওয়ায় আসামীদের গ্রেফতার এবং দেশের প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিত করার দাবী জানান বক্তারা। 

মুক্তিযুদ্ধা স্বরাজ কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ কেতকী রঞ্জন চৌধুরী ভানু, ব্যবসায়ী কালী কান্ত দাস, বাবুল চৌধুরী, শিক্ষক প্রনব দাস মিঠু, রিপন ভট্টচার্য্য, রমেন্দ্র নারায়ন দাস, রতীন্দ্র কুমার দাস প্রমুখ। 

তাতিকোনা মহল্লার সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য টিটু দাস জানান, আমরা এলাকার মধ্যে সব সময় একটি আতংকের মধ্যে বসবাস  করি। প্রতিপক্ষের ভয়ভীতি থাকায় আগামী শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন করতে পারবকিনা তা সন্দেহ রয়েছে। মন্দিরে হামলার বিষয়ে এলাকার শাহ আলম ও নুর আলম সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দিলে থানা কর্তৃপক্ষ এদের নাম এজাহার থেকে বাদ দিয়ে চার্জশীট দেয়। যা আমরা পরে জানতে পারি। এতে আমরা আতংকে রয়েছি। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর