Opu Hasnat

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

বালু দস্যুদের অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ডের কারণেই ভাঙ্গন, শাস্তি দাবী ফরিদপুর

বালু দস্যুদের অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ডের কারণেই ভাঙ্গন, শাস্তি দাবী

ধারাবাহিক বালু দস্যুদের অনিয়মতান্ত্রিক লুণ্ঠনের কারনেই পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে এলাকাবাসী। গত এক বছরে জেলা প্রশাসন বার বার বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কয়েকবার ড্রেজার মেশিন ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তারপরও তাদেরকে রোধ করা যায়নি। নদী তীর সংলগ্ন এলাকা ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার বসিয়ে বালুদস্যুরা কর্মকান্ড চালিয়েছে। কোটি, কোটি টাকার বালু বিক্রয় হয় ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মদদে এই বালু লুটপাটের কাজ চলেছে দীর্ঘদিন।

ফরিদপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক আসার পর বালু উত্তোলন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবার পর এর প্রবণতা অনেক কমে আসে। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে তাতে পদ্মা তীরের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কৃষি ভূমির ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ইচ্ছামত মাটি ও বালু উত্তোলন করার ফলে পুরাতন সেতুটি গত বছর বন্যায় ধ্বসে পড়ে। পরবর্তীতে সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই নতুন সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্রীজ থেকে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছে। গেল শুক্রবার তীব্র ভাঙ্গনে নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্থানীয় জনতা ও বাপাউবোর যৌথ প্রচেষ্টায় এখনও জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর মাধ্যমে ভাঙ্গান প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। 

নদী তীর সংলগ্ন বাসিন্দা নুরুদ্দিন বিশ্বাস (৭৫) বলেন, দেখেন না ভাইঙ্গা যাইতেছে। শুক্রবার বিকেল বেলা ভুরভুর শব্দে দেহি গাঙ্গের পাড় পানির স্রোতে গোলায় যাইতেছে। পাশেই আমার ঘর আমি এলাকার ব্যাবাকতেরে সতর্ক করি। চেয়ারম্যানকে ফোন করি। সারা রাত ঘুমাইতে পারি নাই। এলাকার আরেক বাসিন্দা মোঃ সাহেদ আলী বলেন, গোলডাঙ্গী ব্রীজ থেকে মাত্র ৫০-৭০ গজ দূরত্বে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে কোথা থেকে কোথায় এসেছি। এইটুকু জমি তাও যদি চলে যায় আমরা যাবো কোথায়। অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, নদীর পাড় থেকে মাটি কাটায় এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এলাকার আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, এলাকার কবির মোল্যা, জব্বার জমাদ্দার, মোফা, আবুসহ বেশকিছু বালু দস্যু দীর্ঘদিন ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। কয়েক মাস আগেও প্রশাসন ড্রেজার জব্দ করে তাদেরকে জরিমানা করেছিল। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩০-৪০জন শ্রমিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭৫ কেজি ওজনের জিও ব্যাগে বালি ভর্তি করে মেশিনে সেলাই করছে। কেউ কেউ ভাঙ্গন কবলিত স্থানে বস্তাগুলো সারিবদ্ধ করছে। তীব্র স্রোতে প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন স্থানে পানির ঘূর্ণি স্রোতে বাঁধের সিসি ব্লক নদী গর্ভে ধ্বসে গেছে। সেই সাথে গোলডাঙ্গী ব্রীজ রক্ষার দুপাড়েও সিসি ব্লক নরবরে অবস্থায় আছে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক মুঠো ফোনে জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমি রাতেই এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করি। এক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পুনঃনির্মাণের দাবি জানাই। 

ভাঙ্গন বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ এই বিষয়ে বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর মাধ্যমে প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে তিন হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি সরেজমিনে পর্যবেক্ষনে যাব। এর বাইরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোন কাজ করা সম্ভব নয়।