Opu Hasnat

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০২০,

দামুড়হুদায় মেয়াদোত্তীর্ণ দুটি ইউপি নির্বাচন আটকে আছে চার বছর! চুয়াডাঙ্গা

দামুড়হুদায় মেয়াদোত্তীর্ণ দুটি ইউপি নির্বাচন আটকে আছে চার বছর!

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের নির্বাচনের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ চেয়ারম্যান মেম্বররা  দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০১১ সালের পর হাউলি ইউনিয়নে একটি উপ-নির্বাচন ছাড়া পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন হয়নি। এই ইউনিয়ন ভেঙ্গে দু’টি করায় সিমানা বিভাজন ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিভাজনের রিটের কারনে বন্ধ হয়ে আছে নির্বাচন। ক্ষমতা ধরে রাখতেই নিজেদের লোক দিয়ে আদালতে  এমন রিট করে নির্বাচন আটকে রাখা হয়েছে বলে অনেকের মন্তব্য করছেন। 

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১১ সালে ঐ নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাওঃ আজিজুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর তিন বছরের মাথায় ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী শাহ নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হলে ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের ইউনুছ আলি ইউনিয়ন বিভাজন চেয়ে হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। পরে একই গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খোকন স্থগিতাদেশ বাতিল চেয়ে রিট করলে বিভাজনের রিট খারিজ হয়ে যায়। এসময় ইউনিয়নের লোকনাথপুর গ্রামের আকবার আলি বিভাজন চেয়ে হাইকোর্টে একই রিট করেন। একই ভাবে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। তখন উপজেলা প্রশাসন থেকে হাউলি ইউনিয়ন ভেঙ্গে জয়রামপুর ও রঘুনাথপুর নামে দুটি ইউনিয়ন বিভক্ত করা হয়। হাউলি ইউনিয়নের নাম মুছে যাওয়ায় বিভাজন সঠিক হয়নি এই মর্মে একই গ্রামের মসলেম আলি হাইকোর্টে আবারো রিট করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরে ৩০/০৭/২০১৬ সালে নির্বাচনের দিনক্ষন ঠিক হলে প্রার্থীরা প্রচার শুরু হলে নির্বাচনের দুই দিন আগে আবারো নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ২০১৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহা মারা যায়। এর দুই দিনপর থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন (ভারপ্রাপ্ত) হিসাবে চালাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ।

হাউলি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ খোকন বলেন, তিনি একই সময় নির্বাচন স্থাগিতাদেশ বাতিল চেয়ে রিট করলে প্রথম দুটি রিট খারিজ হয়ে যায়। সর্বশেষ সিমানা বিভাজন সঠিক হয়নি বলে রিট করায় নির্বাচনের স্থগিতাদেশ আসে। ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকার চিন্তায় নিজেদের পক্ষের লোকজন দিয়ে একেরপর এক মামলার কারনে চার বছরের অধিক সময় ইউনিয়ন নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। ইউনিয়বাসী সঠিক ভাবে সেবা পাচ্ছেনা তারা দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছেন নির্বচনের জন্য তারা মুখিয়ে আছেন। ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, একেরপর এক মামলার কারনে নির্বাচন হচ্ছেনা। ২০১১ সালের আমরা নির্বাচিত হয়ে  ২০২০সাল পর্যন্ত ৭বছর সদস্য ও ২বছর চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। তবে নির্বাচন হলে ও আমি আর নির্বাচন করবোনা।  

অপর দিকে  পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউপির একই অবস্থা একই সময় থেকে নির্বাচন আটকে আছে। ইউনিয়ন টিতে ওয়ার্ড বিভাজন নিয়ে একই ওয়ার্ডেও শহিদুল ইসলাম  হাই কোটে রিট করায় তখন থেকেই নির্বাচন আটকে আছে। একই ভাবে ২০১১সালের পর থেকে ইউনিয়ন টিতে আর কোন নির্বাচন হয়নি। এই ইউনিয়নে ওয়ার্ড বিভাজন নিয়ে  শহিদুল ইসলাম ও রুহুল আমিন পর্যায় ক্রমে পৃথক পৃথক রিট করায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে থাকে।

পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা এস এম জাকারিয়া আলম বলেন, মামলা জনিত কারনে ইউপি নির্বাচন আটকে আছে। ৩০/০৭/২০১৬ তারিখে  ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষন নিধারিত হলেও প্রার্থীদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচনের ২দিন আগে  স্থগিতাদেশ আসায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। তবে নির্বাচন হলে দলীয় মনোনয়ন পেলে অবশ্যয় নির্বাচন করবো। 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা) কামরুল হাসান জানান, মামলা জনিত কারনে উপজেলার এই দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন ৪বছরের ও বেশি সময় আটকে আছে। মামলা শেষ হলে দ্রুত নির্বাচনের চেষ্টা করা হবে।