Opu Hasnat

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু আর নেই বিনোদন

চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু আর নেই

ঢাকাই সিনেমার বর্ষীয়ান জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু আর নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহ... রাজিউন)।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, সাদেক বাচ্চু সাহেব শতভাগ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সোমবার সকাল থেকেই তার হার্টবিট বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। অবশেষে ১২টা ৫ মিনিটে সাদেক বাচ্চু মৃত্যুবরণ করেন।

সম্প্রতি জ্বরে আক্রান্ত হন সাদেক বাচ্চু। পরে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গেল ৬ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তার পরিবার সূত্রে জানা যায় এ অভিনেতা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এর পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় শনিবার রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালটির কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন এই অভিনেতা। তার শরীরের আর উন্নতি হয়নি। রবিবার থেকেই তার হার্ট ও ফুসফুস ৮৫ শতাংশ অকেজো ছিল। আজ সোমবার সকাল থেকেই কয়েকদফায় তার হার্টবিট বন্ধ হয়ে আবার চালু হয়েছে। ভেন্টিলেটরে থাকা অবস্থাতেই অবশেষে চলে গেলেন আজ না ফেরার দেশে।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বরেণ্য এ অভিনেতাকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করছেন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা।

সাদেক বাচ্চুর আসল নাম মাহবুব আহমেদ সাদেক। সাদেক বাচ্চু ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহন করেন। সিনেমার কিংবদন্তি মানুষ এহতেশাম ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রে তার নাম বদলে সাদেক বাচ্চু করে দেন। সেই থেকেই তিনি এ নামে পরিচিত।

টিএন্ডটি নাইট কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেন সাদেক বাচ্চু। কর্মজীবনে তিনি ডাক বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অভিনয় শুরু তার ১৯৬৩ সালে, খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিও দিয়ে। একই সঙ্গে মঞ্চেও বিচরণ করেন। প্রথম থিয়েটার ‘গণনাট্য পরিষদ।’ ১৯৭২-৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যখন এদেশের সাংস্কৃতিক বলয় নতুনভাবে তৈরি হচ্ছিল, তখন যোগ দেন গ্রুপ থিয়েটারের সাথে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিষিক্ত হন।
প্রথম নাটক ছিল ‘প্রথম অঙ্গীকার নাটকটি পরিচালনা করেন আবুল্লাহ ইউসুফ ইমাম। সোজন বাদিয়ার ঘাট, নকশী কাঁথার মাঠ সহ অসংখ্য নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। ঝুলিতে যুক্ত হয় প্রচুর সুপারহিট নাটক।

প্রথম চলচ্চিত্র শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রামের সুমতি’ অবলম্বনে একই নামের ছবি, নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। শহীদুল আমিন ছিলেন পরিচালক। আরও একটি চলচ্চিত্রেও সুনেত্রার বিপরীতে নায়ক চরিত্রে ছিলেন কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। খল চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ‘সুখের সন্ধানে’ চলচ্চিত্রে। শহীদুল হক খানের এই ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চন নায়ক ছিলেন।

মৌসুমী চলচ্চিত্রে ‘চাচা ঢাকা কতদূর?’ সাদেক বাচ্চুর এই সংলাপটি ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। এরপর বহু সিনেমায় তাকে দেখা গেছে দুর্দান্ত অভিনয়ে। ২০১৮ সালে ক্যারিয়ারের একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন সাদেক বাচ্চু। 

সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)।

২০১৮ সালের ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সেরা খল চরিত্রাভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন সাদেক বাচ্চু।