Opu Hasnat

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০২০,

বর্ষিয়ান অভিনেতা কে এস ফিরোজ আর নেই বিনোদন

বর্ষিয়ান অভিনেতা কে এস ফিরোজ আর নেই

বর্ষিয়ান অভিনেতা কে এস ফিরোজ (৭৬) আর নেই। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি-----রাজিউন)।

তার মৃত্যুর খবরটি ফেসবুকে জানিয়েছেন তার মেয়ে প্রীতু ফিরোজ। এছাড়া অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা আহসান হাবীব নাসিম কে এস ফিরোজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রীতু ফিরোজ লেখেন, আমার সৈনিক বাবা, মেজর (অব.) খন্দকার শহীদ উদ্দিন ফিরোজ (সবার কাছে উনি কে এস ফিরোজ নামে পরিচিত) আজ সকালে ৬টা ২০ মিনিটে সিএমএইচ-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ বাদ জোহর বাবার ইচ্ছাতে বনানী সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।  

তিনি আরও লেখেন, আব্বু বলেছেন মহামারি চলাকালীন যারা মারা যায়, তারা শহীদ। তিনিও শহীদ হয়ে চলে গেলেন। তার জন্য আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। তার যাতে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব হয়, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাইছি।  

অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা আহসান হাবীব নাসিম বলেন, নাট্যাঙ্গন একজন গুণী অভিনেতাকে হারালো। তিনি আমাদের সংগঠনের আজীবন সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

কে এস ফিরোজের জন্ম ঢাকার লালবাগে, কিন্তু তার পৈতৃক নিবাস বরিশালের উজিরপুরের মশাং গ্রামে। তার বাবার নাম এ জে এম সাইদুর রহমান এবং মা রাবেয়া খাতুন।

১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পদে চাকরি পান। ১৯৭৭ সালে মেজর পদে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।  

নাট্যদল ‘থিয়েটার’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ে কে এস ফিরোজের পথচলা শুরু। এই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’, 'কিংলিয়ার’ ও ‘রাক্ষসী’ নাটকে। এছাড়া তিনি টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় মুখ। বহু একক নাটক, ধারাবাহিক ও টেলিফিল্মে তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। বহু বিজ্ঞাপনও করেছেন।

বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। তার প্রথম সিনেমা ‘লাওয়ারিশ’। এছাড়া কে এস ফিরোজ অভিনয় করেছেন আবু সাইয়ীদের ‘শঙ্খনাদ’, ‘বাঁশি’, মুরাদ পারভেজের ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ও ‘বৃহন্নলা’র মতো প্রশংসিত সিনেমায়।

এদিকে, অভিনেতা কে এস ফিরোজকে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে সামরিক কবরস্থানের মসজিদে বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কে এস ফিরোজ করোনা আক্রান্ত থাকায় তার দাফনে খুব বেশি মানুষের সমাগম করতে দেওয়া হয়নি।

বরেণ্য এই অভিনেতার দাফনের সময়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আহসানুল হক মিনু, অভিনেতা আহসান হাবীব নাসিম, নাট্যপ্রযোজক সাজু মুনতাসির, নাট্যনির্দেশক নরেশ ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন থিয়েটারকর্মী।