Opu Hasnat

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০২০,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম প্রয়াণ দিবস আজ শিল্প ও সাহিত্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম প্রয়াণ দিবস আজ

২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম প্রয়াণ দিবস। করোনার কারণে সীমিত পরিসরে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি।

সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সীমিত পরিসরে শোভাযাত্রা শেষে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয় সমাধিতে।

সকাল সাড়ে দশটায় প্রশাসনিক ভবনে হবে ভার্চুয়াল আলোচনা। বাংলা একাডেমিও নানা আয়োজনে দিনটি পালন করছে।

১৯৭৬ সালে এই দিনে চলে যান জাতীয় কবি। কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা।

তার জীবনকাল ৭৭ বছরের; তবে সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্য জীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

তার ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই’ গানের বাণীর আকাঙ্ক্ষা ভোলেনি বাংলাদেশ; সে আকাঙ্ক্ষাই পূরণ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করে।

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেবনা ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ, বেনী যাবে যবে খুলিতে।
তবু আমারে দেবনা ভুলিতে। ’, তার অসংখ্য নজরুলগীতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি।

মধ্যবয়সে তিনি পিকস ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একসময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তাকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দেন। ১৯৭৬ সালে কবিকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। একই বছর তাকে ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

কাজী নজরুলের রচিত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশের রণসংগীত। তার কিছু গান জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে- গীতি শতদল, গানের মালা, গুল বাগিচা, বুলবুল ইত্যাদি। পরবর্তীকালে আরও গান গ্রন্থিত হয়েছে। তবে তিনি প্রায়শই তাৎক্ষণিকভাবে গান লিখতেন। সেসব গান প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে বলে অনুমান করা হয়। এছাড়া, কাজী নজরুল গান রচনাকালে ১৯টি রাগের সৃষ্টি করেন।