Opu Hasnat

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০২০,

প্রাথমিক পর্যায়ে দলিল পেলো ৫৪ পরিবার

গোয়ালন্দে নদী ভাঙনে সর্বস্বহারা ৩’শ পরিবার পুনর্বাসনের উদ্যোগ রাজবাড়ী

গোয়ালন্দে নদী ভাঙনে সর্বস্বহারা ৩’শ পরিবার পুনর্বাসনের উদ্যোগ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গতবারের ভয়াবহ নদী ভাঙনে সর্বস্বহারা ৩’শ পরিবারের মধ্যে প্রথম দফায় ৫৪ টি পরিবার প্রধানের হাতে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের দলিল তুলে দেয়া হয়েছে। উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তার কার্যালয় থেকে এ দলিল হস্তান্তর করেন। 

গোয়ালন্দ উপজেলা ভুমি কার্যালয়ের তথ্যমতে, জমির বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সরকারিভাবে ঘর তুলে দেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে প্রশাসনের। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের উর্দ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়েছে।

দলিল হাতে পাওয়ার পর গত বুধবার বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা ভুমি কার্যালয়ে বাইরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়ার সাইদ মোল্লা (৪৫), মজিদ মোল্লা (৭০), রূপবান বেগম (৩৫)সহ আরো অনেকেই জানান, নদী ভাঙনের সব হারানোর পর পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলাম। আজকে দলিল হাতে পেয়ে মনে শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য সরকার সত্যিই কাজ করছে। আমাদের জমি পেতে কারো সাথে দেন দরবার করতে হয়নি। এসিল্যান্ড স্যার নিজে ঘুরে ঘুরে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতবারের নদী ভাঙনে ভিটে-মাটি হারা হয় অন্তত সহস্রাধিক পরিবার। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ পরিবার নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনে/লিজ নিয়ে অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু আমাদের জরিপ অনুযায়ী ৩শ পরিবার তাদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা করতে পারেন নি। তারা রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রথম ধাপে এদের মধ্য থেকে আজকে ৫৪ জনের হাতে দলিল তুলে দিলাম। বাকীদেরও পর্যায়ক্রমে দলিল হস্তান্তর করা হবে। এ কাজে কোন মধ্যস্বত্ত্বভোগী যাতে অবৈধ সুযোগ নিতে না পারে সে জন্য তিনি নিজে সরেজমিন ঘুরে ঘুরে তালিকা প্রস্তুত এমনকি দাফতরিক বেশীর কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলায় চলমান নদী ভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। প্রাথমিকভাবে তাদেরকে মাথাগোঁজার জন্য জমির বন্দোবস্ত এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে ঘর তুলে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।