Opu Hasnat

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০২০,

সিংগাইরে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের দুর্দিন! মানিকগঞ্জ

সিংগাইরে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের দুর্দিন!

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশের ন্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় অর্থের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন  শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ অবস্থায় ধার-দেনা করে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছেন তারা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলগুলো দ্রুত  খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলায় ১০৪ টি কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ২’শ  শিক্ষক-কর্মচারী ওইসব স্কুলের সঙ্গে জড়িত। কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে ও শিশু স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে ২৬ মার্চ থেকে সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। সে থেকে কয়েক দফায় এ মেয়াদ  বাড়ানো হয় । সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে হতাশায় পড়েন ওইসব বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রায় পাঁচ মাস ধরে প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় ধার-দেনা করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন তারা। 

সিংগাইর এ কাদের ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক বদরুল আলম কিবরিয়া বলেন, সরকারি যাবতীয় কার্যক্রমের সাথে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা জড়িত। এমন দুর্দিনে এদের বিষয়ে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশাসহ স্কুল পরিচালনার নীতিমালা সহজিকরণের দাবি জানান তিনি।  

এ প্রসঙ্গে সিংগাইর কিন্ডারগার্টেন ডেভেলপমেন্ট  অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রাইজিং সান কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কয়েকশ শিক্ষক বৈশ্বিক এ মহামারির কবলে পড়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়েছেন। বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বেতন পরিশোধ করাও বন্ধ করে দিয়েছেন । এ কারণে স্কুল মালিকপক্ষ শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছেন না। যে কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনা প্রদানসহ  স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম চালু করারও দাবি জানান তিনি ।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার বলেন, কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা পাইনি। তবে করোনাকালীন সময়ে সরকার যদি এদের কোন বিকল্প আয়ের সুযোগ করে দিতেন তাহলে আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হতো।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর