Opu Hasnat

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

নড়াইলে সহকারি প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ! নড়াইল

নড়াইলে সহকারি প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ!

নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর কেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। 

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সভাপতি খায়রুজ্জামান মোল্যা খায়ের ও প্রধান শিক্ষক মোড়ল আবুল হোসেন অসৎ উদ্দেশ্যে সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস (সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) কে নানা অজুহাতে নাজেহাল করছেন। এ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার নাগ ২০১২ সালে চাকুরী ছেড়ে চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পান বর্তমান সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস। ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দ্বায়িত্ব পালন কালে প্রধান শিক্ষক পদে একাধিকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। নিয়োগের প্রলোভন দিয়ে সভাপতি খায়রুজ্জামান একাধিক ব্যক্তির নিকট হতে আর্থিক সুবিধা নেন। এরই মধ্যে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি কাউকেই নিয়োগ দিতে পারেননি। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠায় পরবর্তী কমিটিতে তিনি সভাপতি হতেও পারেননি। সভাপতি হন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস। সভাপতি হয়ে এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে মোড়ল আবুল হোসেনকে নিয়োগ দেন। ওই সময়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে না পারায় সভাপতি খায়ের চরম ভাবে দায়ী করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন বিশ্বাসকে। অন্যলোক সভাপতি হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হলেও তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন বিশ্বাসের কোন ক্ষতি করতে পারেননি। পুনরায় আবার নতুন কমিটি গঠনের সময় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খায়ুরুজ্জামান খায়ের। নির্বাচিত  হয়েই খায়ের প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠেন। তিনি প্রধান শিক্ষক মোড়ল আবুল হোসেন এর সাথে যোগসাজোশ করে সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন বিশ্বাস (সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান) এর বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। দীর্ঘ দিন আগের বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও হিসাব চেয়ে নানাভাবে নাজেহাল করছেন। সভাপতি হয়েই খায়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে একের পর এক ম্যানেজিং কমিটির সভা করে চলেছেন। ২০২০ সালের ১৬মে, ১১জুন, ২৮জুন ও ১৯ জুলাই পরপর ৪টি সভা করেছেন শুধুমাত্র সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ধরাশায়ী করতে। করেনাকালিন সময়ে সভা নিষিদ্ধ থাকলেও কোন কিছুই মানছেন না সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। তারা আগামী ১০ আগষ্ট আরেকটি সভা ডেকেছেন। এদিকে গুঞ্জণ উঠেছে বার বার সভা করে সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে বরখাস্ত করার পায়তারা করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি প্রথমত কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে জানান, বার বার সভা করা হলেও সভায় কি সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, তার কোন কিছুই তাকে জানানো হয়নি। শুনেছেন তার বিরূদ্ধে কোন কিছু করা হচ্ছে। 

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি দফায় দফায় সভা করে সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের কোন ক্ষতি করা হতে পারে। এমনকি চাকুরী হতে বরখাস্ত করা হতে পারে। 

সভাপতি খায়েরুজ্জামান খায়ের বলেন, অহেতুক কোন সভা করা হয়নি। প্রয়োজনেই সভা করা হয়েছে। সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস কোন অপরাধ করলে অবশ্যই তাঁর বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর তিনি কোন অপরাধ না করলে কোন কিছুই হবে না। 

প্রধান শিক্ষক মোড়ল আবুল হোসেন বলেন, সভাপতির নির্দেশে পূর্বের কিছু হিসাব সহ বিদ্যালয়ের নানা বিষয় নিয়ে সভা করা হচ্ছে। এতে যদি কারো দুর্নীতি ধরা পড়ে, তা-হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর