Opu Hasnat

আজ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২০,

মেজর সিনহা হত্যা : ‘ব্যক্তির দায় দুই বাহিনীর সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না’ জাতীয়

মেজর সিনহা হত্যা : ‘ব্যক্তির দায় দুই বাহিনীর সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না’

ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।

কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক মেজর সিনহার পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। গঠিত তদন্ত কমিটির উপর আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান কারো পক্ষে বা বিপক্ষে যাবে না। 

এদিকে, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, উষ্কানি দিয়ে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না। কারো প্রভাবে নয় অপকর্মের দায় নির্ধারিত হবে আইনিভাবে। 

বুধবার (০৫ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারে যৌথ ব্রিফিং এ কথা বলেন তারা।

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহার মৃত্যুর বিবরণ নিয়ে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর মাঠ পর্যায়ে পরস্পর বিরোধী বিবরণের সমাধানে চলছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে। এরমধ্যে একই হেলিকপ্টারে উড়ে কক্সবাজার উড়ে গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।

দুই বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত আর দুই বাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে কথা বললেন। সেনাপ্রধান বলেন, সম্পর্কে চিড় ধরে এমন কোনো কাজ দুই বাহিনী করবে না।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। যে ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী মর্মাহত। আমি আপনাদের মাধ্যমে যে মেসেজ দিতে চাই, তা হলো এটাকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাই।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ বলেন, একটি মহল দুই বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির অপচেষ্টা করলেও তা সফল হবে না।

বেনজীর আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক। সিনহার মৃত্যুতে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না। কমিটি প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। কমিটি যে সুপারিশ দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলমান পরিস্থিতি কক্সবাজারে মাদক বিরোধী তৎপরতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান দুই বাহিনী প্রধান।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। একে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন সিনহার স্বজনরা। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন তারা। সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন মেজর সিনহা রাশেদ। ভ্রমণ বিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেল বানানোর কাজও চলছিলো তার। এরই অংশ হিসেবে সিনহা কক্সবাজারে ভিডিও তৈরির কাজে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরে পুলিশ দাবি করে, আত্মরক্ষার্থেই গুলি করা হয়েছে রাশেদকে।