Opu Hasnat

আজ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২০,

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাংচুর ফরিদপুর

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাংচুর

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আক্কাস নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখেছে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। 

জানা গেছে, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইতোপূর্বে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারই জের ধরে বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর ৩ টা থেকে তিন দফা হামলা চালিয়ে ১৮টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, এলইডি টিভিসহ দামি আসবাবপত্র ও গবাদিপশু-পাখি। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাকিয়ার মোল্যার স্ত্রী সালমা বেগম জানান, বুধবার রাত ৩টার দিকে অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। ঘুমন্ত নারী-পুরুষ কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই  স্থানীয় আক্কাস মোল্যা, গুনবহা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেম্বর সাহেব মোল্যা এবং বর্তমান মেম্বার মঞ্জুর হোসেনের নেতৃত্বে তিনটি গ্রুপ এই ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।

তিনি আরও জানান, ভাংচুরে অংশগ্রহণ করে আশিক, অমিত, মুকুল, আইযুব, সাহেদ, আল আমিনসহ ২০/২৫ জনের একটি দল। এ সময় তারা আমার এক লক্ষ টাকা ও কানের গহনা নিয়ে গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মানোয়ার মোল্যা, ফটিক মোল্যা, বিপ্লব মোল্যা, বক্কার মোল্যা, ইকবাল মোল্যা, রাহেন মোল্যা, নিহার বেগম, সেকেণ্ডার খাঁ, বাদশা মোল্যা, সরোয়ার শেখ, মিটুল মোল্যা, আকিদুল খাঁ, ওবায়দুর খাঁ, জাকির মোল্যাসহ ১৮ জনের বসতঘরে ব্যাপক  ভাংচুর করা হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত বক্কার মোল্যার স্ত্রী মিনু বেগম জানান, তার ৫০ হাজার টাকা, টিভি ও ৮০ টি কবুতর নিয়ে গেছে লুটপাটকারীরা।

জাকির মোল্যার স্ত্রী জেসমিন কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার স্বামীর কিডনির অপারেশনের জন্য বুধবার সকালে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য চারটি গরু বিক্রির দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘরে ছিল। হামলাকারী আশিক, অমিত, মুকুল, মনিররা সব টাকা নিয়ে গেছে।

ভাংচুরের কথা স্বীকার করে সাহেব মোল্যা জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করতে আসলে এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার সাথে সাথেই পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মে  সাহেব মোল্যা ও মঞ্জুর হোসেনের নেতৃত্বে  বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর