Opu Hasnat

আজ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২০,

রুপোর ইট গেঁথে রামমন্দিরের সূচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক

রুপোর ইট গেঁথে রামমন্দিরের সূচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী

মহা আড়ম্বড়ে অযোধ্যায় ৪০ কেজি ওজনের রুপোর ইট গেঁথে ভূমিপূজার মাধ্যমে রামমন্দির নির্মাণের সূচনা করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । 

এ দিন বেলা ১১টায় অযোধ্যার আকাশে মোদীর হেলিকপ্টার চক্কর কাটা শুরু করতেই কার্যত পুরো অযোধ্যা উচ্ছ্বাসে-উল্লাসে ফেটে পড়ে। বেলা ১১টায় সাকেত কলেজের মাঠে তাঁর কপ্টার নামার পরে সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এ বার সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী যান রামগঢ়ীতে হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে। মন্দিরের পক্ষ থেকে তাঁকে বস্ত্র ও রুপোর মুকুট উপহার দেওয়া হয়। এর পর রামলালার দর্শন সারেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে রাম জন্মভূমিতে। সেখান থেকে ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে শুভক্ষণ অনুযায়ী একে একে সমস্ত ধর্মীয় প্রথা-অনুষ্ঠান শেষে মূল মঞ্চে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

মূল অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে গোটা ভূমিপূজনের প্রস্তুতি থেকে গোটা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে। সুষ্ঠুভাবে সব পর্ব শেষ হওয়ার পর মূল মঞ্চে তিনি বলেন, ‘‘গোটা বিশ্ব দেখল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে কী ভাবে যে কোনও বিতর্ক শান্তিপূর্ণ ভাবে, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রীতি মেনে সমধান করা যায়।’’ 

আবেগতাড়িত আদিত্যনাথ বলেন, ‘‘এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত আবেগের দিন, আনন্দের দিন, সুখের দিন। ৫০০ বছরের অপেক্ষার পর এই দিন এসেছে। বহু প্রজন্ম এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছে।’’ তিনি জানান, করোনাভাইরাস অতিমারির জন্য অনেকেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেয়েও আসতে পারেননি। তবে আগামী দিনে চেষ্টা করা হবে, কোনও ভাবে যাতে তাঁদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

রামমন্দির নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। বহু বছর চলেছে আইনি লড়াই। কিন্তু সে সবে ঢুকলেন না প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেওয়ার আগের পর্ব কার্যত এড়িয়েই গিয়েছেন। ‘জয় সিয়ারাম’ ধ্বনিতে বক্তব্যের সূচনা করে নরেন্দ্র মোদী বললেন, ‘‘শ্রীরামের মন্দির আমাদের সংস্কৃতির আধুনিকতার, কোটি কোটি মানুষের সামগ্রিক শক্তির প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা দেবে।’’ মন্দির নির্মাণের পর গোটা অযোধ্যা এলাকার অর্থনীতি কী ভাবে পাল্টে যাবে, সে কথা জানান। বলেন, ‘‘নতুন সুযোগ আসবে, সুযোগ বাড়বে। সারা বিশ্ব থেকে মানুষ আসবেন। প্রভু রাম ও মাতা জানকীকে দর্শন করতে। কত কিছু বদলে যাবে এখানে।’’ এ ছাড়া তাঁর বক্তৃতার গোটা পর্ব জুড়ে ছিল শুধুই রামপ্রশস্তি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শুধু নয়, গোটা বিশ্বে কী ভাবে রামচন্দ্র পূজিত হন, সেকথা জানান।

সব মিলিয়ে মহাধুমধামের মধ্যে দিয়ে শেষ হল রামমন্দিরের ভূমিপূজন পর্ব। সেই সঙ্গেই হয়তো ইতিহাসের পিছনের দিকের পাতায় চলে গেল বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ। আনন্দবাজার