Opu Hasnat

আজ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২০,

খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টি নিষ্ক্রিয়! খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টি নিষ্ক্রিয়!

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে জেলা শাখা ও উপজেলা শাখাতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিপর্যস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু করোনার এই সংকটাবস্থায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি ৯টি উপজেলার জাতীয় পার্টি।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পল্লীবন্ধু এরশাদের ১ম মুত্যু বার্ষিকীর দোয়া ও আলোচনা সভা এবং সামান্য কিছু ত্রাণ দিয়ে ফটোসেশন করে দায় সাড়ছেন জেলা জাতীয় পার্টির নেতারা।

এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টিতে কাঠ ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ বিত্তবান অনেক নেতা রয়েছেন। কিন্তু বেশির ভাগ নেতাই নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। কর্মীদের খোঁজ-খবর রাখেন না, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান না। আমাদের অনেক নেতাকর্মী বর্তমান করোনা সংকটের কারণে আর্থিক সমস্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি আরো বলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে উদাসীন। কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা ও নেতাদের প্রতি তৃণমূলের অনাস্থার কারণে অনেক কর্মী এখন দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টি এক সময় দেউলিয়া সংগঠনে পরিণত হবে। নুন্যতম কর্মীদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ঠাকুরছড়ার গৃহবধূ শান্তিলিকা ত্রিপুরা বলেন, করোনার কারণে মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, লিচুর বাম্পার ফলন হওয়া স্বত্তেও ক্রেতা না থাকার কারণে বেশির ভাগই বাগানে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে অভাব অনটনে অনেক কষ্টে আছি। আমাদের এলাকায় আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও জাতীয় পার্টিকে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখিনি।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি মো: সোহেল বলেন, করোনার কারণে আমাদের কাজকর্ম সব বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের কাছ থেকে দুই দফায় ত্রাণ সামগ্রী ছাড়া আর কোথাও থেকে সহযোগিতা পাইনি।

করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য জেলা জাতীয় পার্টির পরিকল্পনা, পদক্ষেপ এবং কর্মসূচি সম্পর্কে দলটির জেলা আহ্বায়ক অমৃত লাল ত্রিপুরা বলেন, গত দুই/তিন মাস ধরে আমি কিডনি জটিলতায় ভুগছি। বাসা থেকে বের হইনা। বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে আছি। ত্রাণ বিতরণের প্রকৃত সংখ্যা এই মুহূর্তে জানাতে পারছি না।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সম্পাদক (এরশাদ) ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ আলমের কাছে করোনাকালীন সময়ের কার্যক্রম জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ জেলায় অসহায় মানুষের মাঝে ৪০মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করেছেন। যা দিয়ে জেলার ৮হাজার পরিবারের মাঝে ৫কেজি করে খাদ্যশস্য দেয়া হয়েছে।

এদিকে খাগড়াছড়িতে জেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে পল্লীবন্ধু এরশাদের ১ম মুত্যু বার্ষিকীতে দোয়া ও আলোচনা সভা করে দায় ছাড়ছেন। খাগড়াছড়ি জেলা জাপার সভাপতি অমৃত লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে জাতীয় পর্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের জীবনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো: খোরশেদ আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ন-আহবায়ক মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মো: শহীদুল্লাহ, মো: জোহর আলী, জেলা মহিলা পর্টির সভানেত্রী শরবরী দে প্রমূখ। গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন জেলা ওলামা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাওলানা মো: আবুল কাশেম। করোনাকালিন সময়ে সরকারী নির্দেশনা মেনে দোয়ায় অংশ নেন জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ। 

জাতীয় পর্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ’র প্রথম মুত্যু বার্ষিকীতে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলহাজ মো: সোলায়মান আলম শেঠ এর শারীরিক সুস্থতা, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ন আহবায়কের বোগমুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর