Opu Hasnat

আজ ২ অক্টোবর শুক্রবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বৌদ্ধ ভিক্ষু (ভান্তে)-দের বর্ষাবাস শুরু খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বৌদ্ধ ভিক্ষু (ভান্তে)-দের বর্ষাবাস শুরু

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহামারি করোনার কারনে দুরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা আর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভিক্ষু (ভান্তে)-দের ওয়াছু হ্লা (তিন মাস বর্ষাবাস) পালন শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে জেলার ৯টি উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তিন মাসব্যাপী বর্ষা বাস অনুষ্ঠান। এককথায় মারমা ভাষায় ওয়া ছোড়ে ওয়াগ্যেই হ্লা। 

সোমবার সকালে জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষের প্রাচীন য়ংড বৌদ্ধ বিহার, পেরাছড়া বনবিহার, পান খাইয়া পাড়া ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার, সারিপুত্র পালিটোল বৌদ্ধ বিহার, রাজ্যমনি পাড়া বৌদ্ধ বিহার, দীঘিনালা ও পানছড়ি অরুন্য কুটিরসহ সব বড় বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনে কঠোর নিদ্দের্শনা থাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিতিতে ৩ জনের অধিক সমাবেত করা যাবে না। তাই সীমিত পরিসরে এলাকার দায়ক-দায়িকা, অষ্টম শীল গ্রহনকারী সাধু-সাধুমা ও ধর্মীয় পুন্যার্থীদের মন্দিরে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন শেষে আবার নিজ ঘরে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মন্দিরে প্রবেশ পথে পুলিশ ও মহিলা পুলিশের কড়া প্রহড়ায় সাধারন বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা ভিতরে ঢুকতে হয়েছে।

য়ংড বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি থোয়াইহ্লাঅং চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক নিয়ং মারমা জানান, মহামারি করোনা প্রাদুভাব থেকে পরিত্রান পেতে মানুষ সমাগম বিষয়ে জেলা প্রশাসনে কঠোর নির্দ্দেশনা রয়েছে। তিনজনের বেশী না ঢোকার ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মন্দিরে প্রবেশ পথে দায়িত্বরত নিরাপত্তাবাহিনীকে সহযোগীতা করার আহবান জানান। 

সকালে ফুল দিয়ে বৌদ্ধ পূজার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল সমাবেত মংগলসুত্র প্রার্থনা, ফুল পূজা, মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা, সংঘদান, অষ্ঠ পরিষ্কার দান, মঙ্গলসূত্র পাঠ, শীল গ্রহণ, সমবেত বিশেষ প্রার্থনা ও ভিক্ষুদের ছোয়াইং (খাবার) আহার দান, বিকেলে হাজার বাতি প্রজ্জলন ইত্যাদি। বিভিন্ন বিহারে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় সমবেত বিশেষ প্রার্থনা এবং ধর্মীয় দেশনা দেওয়া হয়। এ আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তিন মাসের বর্ষাবাস (ওয়াছু) এক প্রকারের সংযম।

এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-সাদি, বসত ঘর বানানোসহ ইত্যাদি বন্ধ থাকে এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিহারের বাইরে কোথাও কাজে গেলে বাইরে অবস্থান করতে পারেন না। তিন মাসের এ বর্ষাবাস শেষে ফালগুনী পূর্ণিমা থেকে মাসব্যাপী কঠির চীবর দানোৎসব শুরু হয়ে থাকে। এই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন ইহকাল-পরকাল সাধারন মানুষের ফালগুনী পূর্ণিমার গৌতম বৌদ্ধের জন্ম-বৌদ্ধত্ব লাভ-পরিনির্বান যা বৌদ্ধ ধর্মে ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর