Opu Hasnat

আজ ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২০২০,

খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলার করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের পাশে ইউএনডিপি খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলার করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের পাশে ইউএনডিপি

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলাতে মহামারী করোনা ভাইরাসে কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের পাশে খাদ্য ও বীজ সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি)। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ম›ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন স্ট্রেনদেনিং ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন চিটাগং হিল ট্রাক্টস (এসআইডি-সিএইচটি) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি দাতা সংস্থা ডানিডা ও ইউএসএআইডি এর আর্থিক সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শুক্রবার খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে সলিডারিটি প্যাক (খাদ্য ও বীজ) বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী। এসময় তিনি ৩৪৫২ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের হাতে খাদ্য ও বীজ তুলে দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শানে আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্চিতা কর্মকার, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহ উদ্দিন, ও ইউএনডিপির এ্যাক্টিভেটিং ভিলেজ কোর্ট প্রজেক্টের ফ্যাসিলেটেটর সুভাস চাকমা উপস্থিত ছিলেন। 

এসময় তিনি সুবিধাভোগীদের সকল পতিত জমি চাষের আওতায় আনার অনুরোধ জানান এবং মাষ্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্য বিধি পালন ও সামাজিক দুরত্ব মেনে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে নিজে এবং নিজের পরিবারের বাঁচানোর অনুরোধ জানান।

এসআইডি-সিএইচটি ইউএনডিপি খাগড়াছড়ি জেলা ম্যানেজার প্রিয়তর চাকমা জানান পর্যায়ক্রমে তারা দিঘীনালা উপজেলায়-৩০২৪পরিবার, মাটিরাঙ্গায়-২৫৯৯পরিবার, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায়-১৭৬১পরিবার, রামগড় উপজেলায়-১৫৯৬পরিবার, গুইমারা উপজেলায়-২৬৩৬পরিবার, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায়-৩৪৫২পরিবার, মহালছড়ি উপজেলায়-৩৪০৫পরিবার, পানছড়ি উপজেলায়-২৯৬২পরিবার এবং মানিকছড়ি উপজেলায়-১৫৬৫ ঝুঁকিপূর্ন পরিবারকে আগামী ১৮ই আগষ্ট ২০২০ইং তারিখের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য ১০প্রকারের বিভিন্ন দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয় এবং বিতরণকৃত প্রতিটি প্যাকের মধ্যে রয়েছে: চাল-১৫কেজি, ডাল-২কেজি, লবণ-১কেজি, সয়াবিন তেল-১লিটার, পিয়াজ-১কেজি, আলু-৫কেজি, সাবান-২টি, সবজি বীজ-৭প্যাকেট(করলা বীজ – ১০গ্রাম, ঢ়েড়স বীজ ১০গ্রাম, মিষ্টি কুমড়া বীজ ১০গ্রাম, শসা বীজ ১০গ্রাম, লাউ বীজ ১০গ্রাম, পুঁইশাক বীজ ১০গ্রাম, চালকুমড়া বীজ ১০গ্রাম করে), মাস্ক-৪পিস ও সচেতনতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে করোনা বিষয়ক ১টি ও বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিষয়ক ১টি করে পোস্টার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ির ২৯৮নং আসনে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি খাগড়াছড়িবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহার করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার আহবান জানিয়েছেন। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সরকার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে  আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলেও জানান তিনি। তিনি নিজে বাঁচার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে সুস্থ রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনের অনুরোধ জানান। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপির দাতা সংস্থা ডানিডা ও ইউএসএআইডি যৌথ বাস্তবায়নে স্ট্রেনদিং ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় করোনায় জেলার গুইমারা উপজেলার দুর্গম সিন্দুকছড়ি এলাকায়  ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মাঝে সলিডারিটি প্যাকেজ  বিতরনী  অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

করোনার থাবা থেকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ কোন পেশাজীবী রক্ষা পাচ্ছেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন একমাত্র সচেতনতাই পারে এই মহামারির হাত থেকে সকলকে বাঁচাতে। তিনি সময়ে সময়ে সরকার প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানিয়ে বলেন অন্যথায় সরকার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করবেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান, ইউএনডিপির প্রতিনিধি উশিংমং চৌধুরী, সুভাষ চাকমা ও সুষজ চাকমা  উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। পরে গুইমারা উপজেলার শতাধিক প্রত্যন্ত এলাকার ২৬৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মাঝে সলিডারিটি প্যাকেজ(খাদ্য ও বীজ) বিতরণ করা হয়।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর