Opu Hasnat

আজ ১৫ আগস্ট শনিবার ২০২০,

পাহাড়ের রসালো আনারসে কৃষকের মুখে হাসি, খ্যাতি দেশজুড়ে কৃষি সংবাদখাগড়াছড়ি

পাহাড়ের রসালো আনারসে কৃষকের মুখে হাসি, খ্যাতি দেশজুড়ে

খাগড়াছড়ি রাংগামাটি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পার্বত্য অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এর মধ্যে আনারস অন্যতম। উচু-নিচু পাহাড় বেষ্টিত পাদদেশে উর্বর মাটিতে বিষমুক্ত আনারস চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন পাহাড়ের প্রান্তিক কৃষক। ক্রমে বাড়ছে আনারসচাষি ও জমির পরিমাণ। এবার জেলা ৯টি উপজেলাতে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে সুস্বাদু পাহাড়ি এই আনারস।

এদিকে, গতবছরের তুলনায় এবার আনারসের ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকও। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিদিন খাগড়াছড়ি বড় বাজার, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ির গাড়িটানাসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি আনারস বিক্রি করা হয়ে থাকে। এসব আনারস চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাহিদা মেটাতে। এছাড়াও জেলা ও ৯টি উপজেলার বাজারগুলোতে হাতের নাগালেই মিলছে রসালো আনারস। সবচেয়ে বেশি আনারসের চাষ হয়েছে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা ১৭মাইল এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলায়। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভাগ বলছে, পাহাড়ে হানিকুইন ও জায়েন্ট কিউ নামের দুই জাতের আনারস চাষ হয়। মূলত মে, জুন, জুলাই- এই তিন মাস ভাল ফলন পাওয়া যায়। গেলো বছর খাগড়াছড়িতে ১১হাজার ৪৮হেক্টর জায়গায় আনারস আবাদ হয়। যেখান থেকে উৎপাদন হয় ২০হাজার ৩শ ৮১মেট্রিক টন আনারস। আর এবছর আনারসের উৎপাদন তার চেয়ে বেশি হবে।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বেতছড়ি এলাকার আনারসচাষি হিরঞ্জন চাকমা বলেন, এবছর দুই একর জায়গায় ৫০হাজার আনারস চারা লাগিয়েছি। ফলনও হয়েছে ভালো। বাগান থেকেই সব আনারস পাইকারি দামে বিক্রি করে দিয়েছি। সামনের বছর আরো বড় পরিসরে আনারসের চাষ করবো।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরে আনারস বিক্রি করতে আসা মহালছড়ির লেমুছড়ি এলাকার চাষি মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর দুই কানি জমিতে ২০হাজার আনারসের চারা লাগিয়েছি। সেই জায়গায় ৭০হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। তবে এবার লাভ দ্বিগুণ।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মর্ত্তুজ আলী বলেন, এমনিতে পাহাড়ের মাটি অনেক উর্বর। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি মাটি আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় অনারস ফলন ভালো হওয়ায় আনারসচাষিরা লাভবান হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কখনো ফলন ভালো হয় আবার কখনো খারাপ। তবে চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।