Opu Hasnat

আজ ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

দামুড়হুদায় ডেকোরেটর ব্যবসায় ধ্বস, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা চুয়াডাঙ্গা

দামুড়হুদায় ডেকোরেটর ব্যবসায় ধ্বস, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

করোনা মহামারির কারনে ধ্বস নেমেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডেকোরেটরের ব্যবসায়। দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে এই ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা। বেকার হয়ে  পড়েছে হাজার খানেক শ্রমিক। সরকারী-বেসরকারী অনুষ্ঠানসহ বিয়ে, সুন্নতে খতনা, আকিকা, হালখাতা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান সভা-সমাবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যবসার এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পরথেকে প্রায় ৪ মাস ধরে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন তারা। সরকারী কোন সহায়তা পেলে তারা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারতো।

জানা গেছে, জেলার দামুড়হুদা উপজেলা সদর, দর্শনা, কার্পাসডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে মিলিয়ে প্রায় ৭০টি ডেকোরেটরের দোকান রয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠান প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক কর্মরত ছিল। করোনা মহামারির কারনে এই ব্যবসা সম্পুন্ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব শ্রমিকের অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছে আবার অনেকে অন্য পেষা বেছে নিয়েছে। 

চুয়াডাঙ্গা জেলা ডেকরেটর মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক দর্শনা সিগনেচার ডেকোরেটরের মালিক আবুল হোসেন জানান, তার ডেকোরেটরে ৪জন বেতন ভুক্ত কর্মচারী রয়েছে, এদের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। এছাড়াও মালামাল রাখার জন্য ৪টি গোডাউন ভাড়া দিতে হয় ২০ হাজার টাকা। ৪মাস ব্যবসা বন্ধ থাকায় কোন রকম আই না থাকলেও প্রতি মাসে ৫০হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এভবে চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা। 

দামুড়হুদা বাজারের অনিকা ডেকোরেটর এন্ড মাইক সার্ভিসের মালিক নুর আলি জানান, তার দোকানে ৪জন বেতন ভুক্ত কর্মচারীসহ ১০জন শ্রমিক ডেলি হাজিরায় কাজ করতো বর্তমানে ডেলি হাজিরার কর্মচারিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকলে ও এখন চারজন বেতন ভুক্ত কর্মচারী ও ৪টি গোডাউন ভাড়া মিলিয়ে ২৩ হাজার টাকা প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে। নিজের আলাদা ব্যবসা ও মাঠে চাষাবাদ থাকায় বাড়ী থেকে টাকা এনে কর্মচারী ও গোডাউন ভাড়া দিতে হচ্ছে। এমন অবস্থা থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া আর উপায় থাকবেনা।

দামুড়হুদা সদরের অপর স্মৃতি ডেকোরেটর এন্ড মাইক সার্ভিচের মালিক মোহাম্মদ আলি জানান, ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ থাকায় সে তার দোকানের সকল কর্মচারী ছাটায় করে দিয়েছে। সে নিজে ও দোকানে আসে না।তার একই স্থানে অন্য ব্যবসা ঘড়ি ও চসমার দোকানে ছেলে বসে কোন রকমে চলছে। ৪মাস ব্যবসা বন্ধ হয়ে রয়েছে সরকারী কোন ধরনের সহায়তা পেলে হযতো ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব হতো। এভাবে চলতে থাকলে  হয়তো এই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। দামুড়হুদা বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক শফিউল কবির ইউসুফ জানান,, করোনা মহামারির প্রভাবে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দুরুত্ব বজার রাখতে সকল ধরনের সভা সমাবেশ ও পারিবারিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা দুখই খারাপ অবস্থায় আছে।