Opu Hasnat

আজ ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২০২০,

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে অনুশীলন করা বাংলাদেশী ফুটবলার রিপন এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী খেলাধুলাফরিদপুর

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে অনুশীলন করা বাংলাদেশী ফুটবলার রিপন এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব ইংল্যান্ডের ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড ক্লাবে অনুশীলন করা বাংলাদেশের ফুটবলার ফরিদপুরের ছেলে রিপন এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন ফরিদপুরের একটি সরকারী অফিসে। বাফুফের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে এমন অবস্থা বলে মনে করছেন ফুটবলের সাথে জড়িত বিশিষ্টজনেরা। 

ফরিদপুরের ছেলে রিপন কুমার দাস ২০১২ সালে এয়ারটেলের রাইজিং ষ্টার চ্যাম্পিয়ান হয়ে ১২জনের একটি টিমের সাথে নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখে ইংল্যান্ডের ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড ক্লাবে অনুশীলন করার জন্য বিদেশে যান। এরপর সেখানে ১০ দিনের অনুশীলন শেষ করে ফিরে আসেন দেশে। দেশের আসার পর বাফুফের তদারকির অভাবে তাকে ফিরে আসতে হয় নিজ জেলায় ফরিদপুরে। ফরিদপুরে আসার পরে সংসারের অভাব অনটনের কারনে তাকে বেছে নিতে হয় বাবার ফরিদপুর সড়ক বিভাগের মাষ্টার রোলের পরিচ্ছন্নতার কাজ। গত কয়েক বছর যাবত এই কাজ করছেন ফরিদপুর সড়ক বিভাগে তিনি। প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে তিনি সেখানে গিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরেয়ে আনার জন্য। রিপন একই সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের অনুশীলন। সাবেক ফুটবলার ও জেলা টিমের কোচ আবুল কাশেম ভোলার তত্ববধানে প্রতিদিন চলছে বিকেলে অনুশীলন ষ্টেডিয়ামের মাঠে। এখনো তার দূর্নিবার ইচ্ছা তিনি হবেন দেশ সেরা ফুটবলার মধ্যে মাঠের। তবে দিন যতো যাচ্ছে সংসারের অভাব অনটনের কারনে দিনকে দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে সেই আকাশ ছোয়া স্বপ্ন প্রত্যাশা।

তার মা পান্তা দাস বলেন, আমার দুই ছেলে রিপন সবার বড়। ছোট ছেলে তপন এখনও কিছু করে না। রিপন এতবড় একজন ফুটবলার শুধু সংসারের অভাবের কারনে বেছে নিতে হয়েছে ওর বাবার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ। এতে আমাদের খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই। রিপন যদি আয় রোজগার না করতে পারে তাহলে আমাদের যে না খেয়ে থাকতে হবে। তিনি বলেন, ওর বাবা অসুস্থ্য থাকায় ওকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।  
 
সাবেক ফুটবলার, ডিএফএ ফরিদপুরের সাধারন সম্পাদক ও ফরিদপুর জেলা টিমের কোচ আবুল কাশেম ভোলা জানান, রিপনের মতো ফুটবলার তৈরি হয় খুব কম। বাফুফে যদি সঠিকভাবে ভূমিকা নিতো তাহলে তাকে এভাবে ঝড়ে পড়তো হতো না। এখনো তার অনেক সুযোগ রয়েছে তাকে বাফুফে কাজে লাগাবে সেই আশা তিনি করেন। 

ফুটবলার রিপন কুমার দাস বলেন, আমার আর্থিক অভাব অনটনের সংসারের কারনে আমি এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বাবা-মা কষ্টের কথা চিন্তা করে কাজ করছি। তবে এমন ভাবে কাজ করতে হবে সেটা কখনো চিন্তায় ছিলোনা। আমি হতে চেয়েছিলাম বড় ফুটবলার। এতে সংসারের দৈন্যদশা কাটবে কিন্তু তা হয়নি। বাফুফে যদি আমাদের ব্যাপারে ভূমিকা নিতো তাহলে হয়তো এমন হতে হতো না আজ।  

ফুটবলের সাথে জড়িতরা মনে করেন রিপনকে মাঠে ফিরিয়ে এনে আবার তাকে খেলার ব্যাপারে সরকার ও বাফুফে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে এই প্রত্যাশা সকলের।