Opu Hasnat

আজ ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হলো শিম্প্রপাড়া মার্কেট কালেকশন পয়েন্ট কৃষি সংবাদখাগড়াছড়ি

ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হলো শিম্প্রপাড়া মার্কেট কালেকশন পয়েন্ট

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শিম্প্র পাড়া খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এটি খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০কি.মি.দুরে। এ এলাকার কৃষকরা সবজি, আম, কাঠাল, আনারসসহ অন্যান্য কৃষি পন্য উৎপাদনের সাথে জড়িত। কিন্তু বেশির ভাগ কৃষকই নিজে নিজে উৎপাদন করে এবং একক ভাবে বিক্রয় করে। একক বিক্রয় করার ফলে পন্যের বাজার মূল্য সম্পর্কে যেমন কৃষকের ধারণা কম তেমনি পরিবহন খরচ, রাস্তার অন্যান্য খরচ বাবদ অনেক টাকা ব্যয় হত ফলে কৃষকরা পন্য বিক্রয় করে লাভবান হতে পারত না।

২০১৯ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও এসআইডি-সিএইটি, ইউএনডিপির সহযোগিতায় যৌথভাবে বাস্তবায়িত কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের বাজার সংযোগ কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের সুবিধার্থে দলগত ভাবে পন্য একত্রিত করে বিক্রয় করার জন্য এলাকায় একটি মার্কেট কালেকশন পয়েন্ট করে দেওয়া হয়। এটি রক্ষনাবেক্ষন ও পরিচালনার জন্য কৃষিপন্য ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে ৫জনের একটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে। উক্ত কমিটির মাধ্যমে কালেকশন পয়েন্ট পরিচালিত হচ্ছে।

কালেকশন পয়েন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি কৃষক ফোরকান আলী বলেন কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনায়-কৃষক মাঠ স্কুল হতে আমরা দলগতভাবে গুনগত মানের পন্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে প্রশিক্ষন পেয়েছি। এখন আমরা পন্য বাজারজাত করণের পূর্বে পন্যর গুনগত মান বৃদ্ধির জন্য পরিষ্কার করণ, বাছাই ও গ্রেডিং করে ভালকরে মোড়কজাত করে দুরের বাজারে পন্য সরবরাহ করি এতে পন্য পরিবহনের সময় নষ্ট হয় না ফলে দাম ভাল পাওয়া যায়। এছাড়া কাচামাল বাজার সমূহে দ্রুত পচনশীল পন্যসমূহ সরবরাহ করা হয়।

মার্কেট কালেকশণ পয়েন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রবিউল হোসেন বলেন বর্তমানে এ কালেকশন পয়েন্টের সাথে প্রায় ১০টি গ্রামের ১০০০ থেকে ১২০০ কৃষক পরিবার সম্পৃক্ত রয়েছে। গুনগত মানের পন্য উৎপাদন হওয়ায় খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ির বাইরের ব্যবসায়ীদের সংযোগ স্থাপন হয়েছে। গত এপ্রিল-জুন এই তিনমাসে শিম্প্রপাড়া কালেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে ২হাজার মন সবজি, ২০লক্ষ পিস লিচু, ১লক্ষ ২০হাজার পিস কাঠাল, ১৮শত মন আম এবং ১০হাজার আনারস বিক্রয় হয়েছে যার বাজার মূল্য ১কোটি ৫০লক্ষ টাকা। কালেকশণ পয়েন্ট হওয়ার পূর্বেও আমরা সবজি ও ফলসহ বিভিন্ন পন্য বিক্রয় করতাম কিন্তু বাজার দর ও গুনগত মানের পন্য উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় একেকজন একেক রকম দাম পেত। কালেকশন পয়েন্ট হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যাবসায়ীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় ও জেলার বাইরের অনেক ব্যবসায়ী এখানে সবজি, কাঠাল, আম, আনারস ও লিচু ক্রয় করতে আসে। যার ফলে প্রতিযোগিতা মুলক বাজার তৈরী হয়েছে এবং কৃষকরা দাম সঠিক মূল্যে পাচ্ছে।

ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি এ সিজনে ২০-৩০লক্ষ টাকার সবজি ও ফল ক্রয় করেছি যা স্থানীয় তিনটহরী, গুইমারা বাজারসহ খাগড়াছড়ির বাইরে কুমিল্লা, ফেনী, ঢাকা, বড় বাজার গুলোতে সরবরাহ করেছি।

ব্যবসায়ী আদম আলী বলেন, আমি এ বছর ১০-১৫লক্ষ টাকার সবজি ও ফল ক্রয় করে চট্রগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী, নরসিংদী এ সকল বড় বাজারে সরবরাহ করেছি। আমার মত এখানে আরও ২০-২৫জন ব্যবসায়ী রয়েছে যারা পন্য ক্রয় করে স্থানীয় বাজার ও বাইরের বাজারে সরবরাহ করে। বর্তমানে ব্যবসা করে আমি নিজে যেমন ভাল দাম পাচ্ছি তেমনি কৃষকরাও ভাল দাম পাচ্ছে। এরুপ আধুনিক কালেকশন পয়েন্ট আরও বৃদ্ধি করা হলে ব্যবসায়ীদের যেমন সুবিধা হবে তেমনি কৃষকদেরও পন্য বিক্রয় ও পন্যর ভাল দাম পাওয়া সহজতর হবে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মংপাইপ্র মারমা বলেন, পার্বাত্য জেলা পরিষদ ও এসআইডি-সিএইচটি ইউএনডিপির সহযোগিতায় কালেকশন পয়েন্টটি স্থাপন হওয়াতে এখানকার কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হতে চলেছে তবে এ ধরনের কালেকশন পয়েন্ট এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা এই কালেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে এই এলাকার কৃষকরা আরও বেশি পরিমান পন্য সরবরাহ করতে পারবে এতে বাহিরের ক্রেতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি এই এলাকার কৃষকদের পন্য বিক্রয় ও ভাল দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।