Opu Hasnat

আজ ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

ঢাকা শহরের প্রায় ৯৮শতাংশ রেস্তোরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত জাতীয়

ঢাকা শহরের প্রায় ৯৮শতাংশ রেস্তোরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ অনুযায়ী পাবলিক প্লেসের একটি বড় অংশ রেস্তোরা মানছে না তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন। ঢাকা শহরের প্রায় একশত ভাগ (৯৮%) রেস্তোরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন-এর এক জরিপে। 

বুধবার (০১ জুলাই) বেলা ৩ টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ঢাকা শহরের রেস্তোরায় আইন বাস্তবায়নের চিত্র পর্যবেক্ষণ জরিপের ফলাফল ও ভবিষ্যত করণীয়” শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় জরিপের ফলাফল তুলে ধরে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারি পরিচালক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: মোখলেছুর রহমান। 

২০১৯ সালের জুন মাসে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন তত্বাবধায়নে ‘ঢাকা শহরের রেস্তেরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা’ যাচাইয়ের জন্য ‘ক্রস সেকশনাল’ পদ্ধতিতে জরিপটি পরিচালিত হয়। এই জরিপের উদ্দেশ্য হল: ঢাকা শহরের রেস্তেরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থার পর্যবেক্ষণ ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, রেস্তোরা কর্তৃপক্ষ, মালিক সমিতি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনের প্রমাণভিত্তিক তথ্য সরবরাহ করা।  

ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট ৩৭১টি (উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২১১টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৬৬টি) রেস্তোরায় পরিচালিত হয় এই জরিপ। যার মধ্যে ২৪৫টি রেস্তোরার ট্রেড লাইসেন্স আছে আর বাকী ১২৬টি রেস্তোরার কোন ট্রেড লাইসেন্স নেই। এই ৩৭১টি রেস্তোরার ৯৮%-এ সামগ্রিক ভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের চিত্র উঠে আসে অর্থাৎ মাত্র ২% রেস্তোরা যথাযথভাবে আইন বাস্তবায়ন করছে। আরো দেখা গিয়েছে যে ৩৪% রেস্তোরায় ধূমপানের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়, ১৭.৩% রেস্তোরায় সরাসরি ধূমপানের দৃশ্য দেখা যায়; ২৯.৪ % রেস্তোরায় সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ/ছাঁই দানি পাওয়া গিয়েছে এবং ২.৬% রেস্তোরায় ধূমপানের গন্ধ পাওয়া গিয়েছে। ৯৮% রেস্তোরায় আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি এবং ৯২% রেস্তোরায় কোন ধরনের সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আইন লঙ্ঘনের হার যথাক্রমে ৩৩.২% ও ৩৫.৬%। ট্রেড লাইসেন্স আছে এমন রেস্তোরায় আইন লঙ্ঘনের হার ৩১.৪ এবং ট্রেড লাইসেন্স বিহীন রেস্তোরায় হার ৩৯.৭।

উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, “২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তামাকমুক্ত হবে”। বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে Framework convention on Tobacco control (FCTC) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং ২০০৪ সালে অনুস্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ এই চুক্তির প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে ও পরে ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে এবং ২০১৫ সালে বিধি প্রনয়ণ করে। আইনের ধারা - ৪ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহণে ধূমপান নিষিদ্ধ; ধারা - ৭ (ক) অনুযায়ী, পাবলিক প্লেস বা পাবলিক পরিবহনের মালিক/ তত্বাবধায়ক/ব্যবস্থাপক  তার পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহণকে ধূমপানমুক্ত রাখবেন; ধারা-৮ অনুযায়ী, সকল পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহণে সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শণ বাধ্যতামূলক এবং ধারা - ৫ অনুযায়ী, যে কোন উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের সকল ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা ও প্রণোদনা নিষিদ্ধ।  কিন্তু এ আইন মানছে না রেস্তোরাসমূহ। 

তাই আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতি কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরেন- তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে বাজেট বরাদ্দ রাখা এবং রেস্তোরা মালিক ও কর্মচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা আয়োজন, বিভিন্ন উপকরণ প্রকাশ ও বিতরণ করা; রেস্তোরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহন; সকল রেস্তোরাকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা এবং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনের শর্ত আরোপ করা এবং প্রতিবেদন প্রদান বাধ্যতামূলক করা; একটি মনিটরিং টিম গঠন এবং তামাক আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিনিয়ত মনিটর করা; কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শককে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষনের নির্দেশনা প্রদান এবং পর্যবেক্ষন প্রতিবেদন সংগ্রহ; আইন যথাযথ বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন যেমন: নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা, আইন অমান্যে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স বইয়ে শর্ত অন্তর্ভূক্ত করা; আইন অমান্যে মৌখিক/লিখিত নোটিশ প্রদান বা মামলা রুজু করা;সহ আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. মো: মোমিনুর রহমান মামুন। সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। এছাড়াও সভায় অংশ নেয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব, সকল বিভাগীয় প্রধান, সকল আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, সকল সহকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক সহ অন্যান্য তামাকবিরোধী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। 

সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কাযক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এবং রেস্তোরাসহ সকল পাবলিক প্লেসে যেন আইন আরো শক্তভাবে বাস্তবায়িত হয় সে বিষয় প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নসহ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন আরো কঠোর পদক্ষেপ নিবে বলে জানান প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।