Opu Hasnat

আজ ৫ আগস্ট বুধবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

সিংগাইরে নায়ক অনন্ত জলিলের বন্ধ করা রাস্তা খুলে দেয়ার দাবীতে স্বারকলিপি প্রদান মানিকগঞ্জ

সিংগাইরে নায়ক অনন্ত জলিলের বন্ধ করা রাস্তা খুলে দেয়ার দাবীতে স্বারকলিপি প্রদান

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা এলাকার  এজেআই গ্রুপের কর্ণধার চিত্র নায়ক এমএ জলিল অনন্ত শত বছরের পুরনো রাস্তা বন্ধ করে এখন তিনি বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে। তার এ বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ফলাও করে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনে না গিয়ে আইনী প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাস্তাটি পুনরায় খুলে দেয়ার দাবীতে তারা প্রায় আড়াইশ লোকের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করেন। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট দফতরে অনুলিপিও দিয়েছেন তারা। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়ের করা স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, অনন্ত জলিলের বন্ধ করে দেয়া ওই রাস্তাটি হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ ধল্লা-বিন্নাডাঙ্গী বাসষ্ট্যান্ড থেকে ধল্লা খানপাড়া, মধ্যপাড়া হয়ে ফোর্ডনগর রাস্তায় মিলিত হয়েছে। সিংগাইরের সাথে রাজধানীর সংযোগস্থল ধলেশ্বরী নদীতে শহীদ রফিক সেতু চালু হওয়ার পর থেকে রাস্তাটির গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। ধল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা, কবরস্থান ও দু’টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তাও এটি। রাস্তাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়াত চেয়ারম্যান ফজলুল হক মোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়ণে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ ও মাটি ভরাট করেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ২০১৭ সালে গ্রামীণ অবকাঠামো কর্মসূচীর মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কার করেন। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এলজিএসপি প্রজেক্টের অর্থায়নে রাস্তাটি ইটের সলিং করা হয়। একই সাথে রাস্তার একটি অংশে ভূমি রাজস্ব করের অর্থায়নে (১%) পাকা করা হয়।

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, ধল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পার্শ্বে অনন্ত জলিলের মালিকানাধীন এজেআই গ্রুপের ক্রয়কৃত জমির মাঝ বরাবর শত বছরের পুরনো আইলের দু’পাশের সামান্য পরিমাণ জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হতো। জনচলাচলের কারণে  প্রশস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি উন্নয়ন হয়। গেল বছরের শেষের দিকে এজেআই গ্রুপের লোকজন ও তাদের সশস্ত্র আনসার বাহিনী কয়েক দফা রাস্তাটি ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে। এতে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে পিছু হটে তারা। সর্বশেষ গত (১৮ জুন) ওই গ্রুপের সশস্ত্র আনসার বাহিনী  ও এলাকার কুচক্রী মহলের সহায়তায় স্থানীয়দের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে রাস্তার ইট উপরে ফেলে। সেই সঙ্গে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ নিয়ে এলাকাবাসী ও মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ প্রানহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা পুনরুদ্ধারে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি আইনী প্রক্রিয়ায় অনন্ত জলিলকে  কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তারা আরো বলেন, ইতিপূর্বে কয়েক দফায় সরকারি অর্থায়নে রাস্তাটি উন্নয়ন ও সংস্কারের সময় এজেআই গ্রুপের পক্ষ থেকে কোন প্রকার বাঁধা দেয়া হয়নি। এ রাস্তাটি খুলে না দিলে এজেআই গ্রুপের কোনো যানবাহন এলাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না। 

এজেআই গ্রুপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, এটা আমাদের প্রজেক্টের জায়গা। এখানে কোনো রাস্তা ছিলো না।

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, এলাকাবাসির পক্ষ থেকে ডিসি স্যারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আমাকে অনুলিপি দিয়েছেন। আমার সাথে এজেআই গ্রুপের কথা হয়েছে। তারা ডিসি স্যারের সাথে বসে আগামী রোববারের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করে দিবেন। 

ডিডিএলজি মানিকগঞ্জ ফৌজিয়া খাঁনম বলেন, সরকারি বরাদ্দের কাজগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএনও তদারকি করেন। এলজিএসপির দায়িত্ব কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, স্মারকলিপির কপি পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।