Opu Hasnat

আজ ৫ জুলাই রবিবার ২০২০,

বোয়ালমারীতে অদৃশ্য প্রাণীর কামড়ে নির্ঘুম রাত কাটছে ৬ গ্রামের বাসিন্দাদের! ফরিদপুর

বোয়ালমারীতে অদৃশ্য প্রাণীর কামড়ে নির্ঘুম রাত কাটছে ৬ গ্রামের বাসিন্দাদের!

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অদৃশ্য প্রাণীর কামড়ে আতঙ্কে রয়েছে ছয় গ্রামের মানুষ। গত শুক্রবার থেকে এ অদৃশ্য প্রাণীর কামড়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ নারী ও শিশু ৩ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। 

সোমবার বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের রাখালগাছি, চন্ডিবিলা, গোহাইলবাড়ি, দৈতরকাঠি ও ময়না ইউনিয়নের খাইলপাড়া গ্রামের প্রায় ২৫জন আক্রান্ত রুগির সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। তবে এখন পর্যন্ত এই অদৃশ্য প্রাণীর কামড়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানা গেছে। আক্রান্ত সবাই সুস্থ্য আছেন। 

ঘোষপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তবিবর মিনা বলেন, এই এলাকার মানুষ আতঙ্কে আছে। যেখানে সেখানে কামড়াচ্ছে এই অদৃশ্য প্রাণী। সোমবারও কয়েকজনকে কামড় দিয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কবিরাজের কাছে নিয়ে সাপে কামড়ের মত চিকিৎসা দিলে সে ভাল হয়ে যাচ্ছে। এই কামড়ে মুক্তিযোদ্ধা সাত্তারের পরিবারের ৯জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন বলে আরও জানা গেছে।

কামড়ে আক্রান্ত চরদৈতরকাঠি গ্রামের শাকিবুল ইসলাম (১৭) বলেন, রোববার দুপুরে সাইকেল চালিয়ে বেড়ানোর সময় হঠাৎ পায়ের এক জায়গায় পুড়ে ওঠে। আস্তে আস্তে শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হলে কিছুক্ষণ পর শরীরে ব্যাথা অনুভব করি। বাড়ি এসে কবিরাজের কাছে গিয়ে বিষ নামালে আমি ভাল হয়ে যাই। 

গোহাইলবাড়ি গ্রামের কবিরাজ আক্কাস আলী মিনা জানান, আমি এ পর্যন্ত প্রায় একশ রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি। কিন্তু সাপে না কি পোকায় কামড়াছে এটা আমি ধারণা করতে পারিনি। সাপে কামড়ালে যেভাবে চিকিৎসা দেই, সেই চিকিৎসা দিলে রোগী ভাল হয়ে যাচ্ছে। 

ঘোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ফারুক হোসেন বলেন, প্রথমে আমার ইউনিয়নের রাখালগাছি গ্রামে সাপে কামড়ের মত ত্রিশজনকে কামড়িয়েছে। যেখানে কামড় দেয় সেস্থানে ক্ষত হয়ে রক্ত বের হয় এবং রোগীর বমি শুরু হয়। পরে ওঝার কাছে গিয়ে বিষ নামালে রোগী সুস্থ্য হয়ে যাচ্ছে। তারপর ওই গ্রামে আলেম ওলামাদের এনে গ্রাম বন্ধ দিলে পাশের গ্রামে আবার আক্রান্ত শুরু হয়েছে। 

সোমবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে এরকম ঘটনা গুজব মনে হচ্ছে। এই গুজবে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে কোন রোগী দেখতে পায়নি।