Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

সুনামগঞ্জে স্বামীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অনাহারে জীবন চলছে অন্তসত্তা গৃহবধূর নারী ও শিশুসুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে স্বামীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অনাহারে জীবন চলছে অন্তসত্তা গৃহবধূর

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার(বড়দল) দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াহাটি গ্রামের এক যৌতুকলোভী স্বামীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গরীব দিনমুজুর পিতার বাড়িতে অনাহারে অর্ধাহারে জীবযাপন করছে ফারজিনা খাতুন নামে ৮ মাসের অন্তসত্তা এক গৃহবধূ। তার ১৪ মাসের আরেকটি সন্তান ও রয়েছে। তিনি একই ইউনিয়নের কাউকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ২০১৩ সালে  ইউনিয়নের নোয়হাটি গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ শেফুল আলমের সাথে ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী দেনমোহরের মাধ্যমে ফারজিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালভাবে চললেও পরে যৌতুকলোভী স্বামী ফারজিনাকে বাবার বাড়ি হতে যৌতুক বাবত টাকা আনার প্রস্তাব দেন। ফারজিনা তার দিনমুজুর পিতার সংসার হতে টাকা আনা সম্ভব নয় বললে স্বামী শেফুল আলম, শ্বশুড় জালাল উদ্দিন, শ্বাশুড়ি ফাখারুন বিবি কর্তৃক চলে গৃহবধূর উপর শারীরিক নির্যাতন। এভাবে অসংখ্য বার এই গৃহবধূর উপর চলে নির্যাতনের স্টীমরোলার। ফলে স্বামী, শ্বশুড় ও শ্বাশুড়ির নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ফারজিনা দিনমুজুর পিতার  বাড়িতে আশ্রয় নেন। বছরের পর বছর পিতার বাড়িতে থাকলেও স্বামীর বাড়ির লোকজন তার এবং সন্তানের খোজখবর না নেওয়ায় ফারজিনা বাদি হয়ে স্বামী শেফুল আলমকে আসামী করে সুনামগঞ্জ জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভয়ে স্বামী, শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সামায়ন কবির সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে যৌতুকলোভী স্বামী ফারজিনাকে আবারো ঘরে তুলে নেন।  এরমধ্যে তাদেও একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ৬ মাসের মাথায় আবারো ফারজিনাকে যৌতুকের টাকার জন্য মারপিঠ করে বাড়ি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়।  পরে বড়দল(দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আবারো  ফারজিনাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। ”কথায় আছে না চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী” আবারো চলে সীমাহীন ফারজিনার  উপর অত্যাচার নির্যাতনের স্টীম রোলার। এমন কি ঐ গৃহবধুকে ১৪ মাসের ছেলেসহ ৫দিন গোয়াল ঘরে বন্দি করে রাখে বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফারজিনা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন । তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্র রয়েছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়। 

এ ব্যপারে অভিযুক্ত যৌতুকলোভী স্বামী শেফুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী ফারজিনা প্রায় সময়ই আমার বাবা-মায়ের সাথে ঝগড়া করে। এখন আমি স্ত্রী কথায় সায় না দেয়ায় ফারিজিনা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়।