Opu Hasnat

আজ ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ২০২০,

খাগড়াছড়ি জেলাতে উৎপাদিত আম ও কাঠাঁল যাচ্ছে সারাদেশে

আমের ফলন ভালো হলেও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাহাড়ের কৃষক কৃষি সংবাদখাগড়াছড়ি

আমের ফলন ভালো হলেও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাহাড়ের কৃষক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলায় পাহাড়ে উৎপাদিত আম ও কাঠাঁল যাচ্ছে সারাদেশে। জেলা সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাংগা, গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি উপজেলায় উৎপাদন ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর, দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তবে এবছর করোনা ভাইরাসের কারনে বিভিন্ন ফলাদি আম ও কাঠাঁলের দাম অনেক কম। এসব আম(কেজি) ও কাঠালের(প্রতিটি/সাইজ/আকার) স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, মাইজদী, চৌমুহনীসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। প্রতিটি কাঠাল আকার অনুসারে ১৫-৩৫টাকা দরে পাইকারী ক্রয় করা হচ্ছে। তবে এগুলো দেশের বিভিন্ন আড়তে যাওয়ার পর সেখানে ৭০-৯০টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। 

ব্যবসায়ীরা জানায়, জেলা সদর কমলছড়ি, রোয়াসায়া পাড়া, সাতভাইয়া পাড়া, হরিনাথ পাড়া, বিচিতলা, ঠাকুরছড়া, চম্পা ঘাট, আখবাড়ি, গুগড়াছড়ি, নুনছড়ি, পেড়াছড়া, আপার পেরাছড়া, আলুটিলা, দীঘিনালা উপজেলার বেতছড়ি, মধ্যবেতছড়ি, মেরুং,ছোট মেরুং,পোমাং পাড়া, জাম্বুড়া পাড়া, রশিকনগরসহ ইত্যাদি এলাকায় আম ও কাঁঠাল বাগান চাষী রয়েছে। 

আম্রপালি আমের খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এই আমের চাহিদা থাকায় সময়ের সঙ্গে বেড়েছে চাষাবাদ। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় আমের উৎপাদন বেশি হয়েছে। তবে করোনার কারণে আম বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষক। কৃষকরা জানায়, সময়মত আম বাজারজাত করতে না পারলে লোকসানে পড়তে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের মাটি উর্বর হওয়ায় উপাদনমুখী ফলন হয় আমের ফলন ভালো হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আম যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। পাহাড়ে মূলত আম্রপালি, রাঙ্গুইন, বারি-৪, ৮, ১১ জাতের আম চাষ করা হয়।

খাগড়াছড়ির বাগান মালিক এবং ফলদ বাগান মালিক সমিতির সভাপতির উপদেষ্টা অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, আম ও কাঠালের ফলন ভালো হলেও বাজারজাত নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। তার উপর করোনার কারণে বিগত বছরের মতো ভালে দাম পাওয়া নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। চাষিদের বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর খাগড়াছড়িতে ৩হাজার ২৪৪হেক্টর জায়গা জুড়ে প্রায় ২৯হাজার ১৯৬মেট্রিক টন আম ও কাঠাল উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা ১৯৬মেট্রিক টন বেশি।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মতুর্জ আলী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি বাইরে থেকে যারা আম কিনতে খাগড়াছড়ি আসবে তারা যেন নির্বিঘ্নে আম কিনতে পারেন সেটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব। এছাড়া করোনার কারণে যদি আম ও কাঠাল বিক্রি করতে না পারে সেক্ষেত্রে কৃষি প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে চাষীরা দশ থেকে বার হাজার কাঁঠাল প্রতি সাপ্তাহিক হাটে নিয়ে আসেন। প্রতিটি কাঠাল আকার অনুসারে ১৫-৩৫টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করা হচ্ছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বোয়ালখালী বাজারে কাঁঠাল বিক্রি করতে আসা মো: রমজান আলী জানান, ছোট মেরুং থেকে একশত পঞ্চাশটি কাঁঠাল বিক্রি করতে এনেছি। প্রতিটি কাঁঠাল ত্রিশ টাকা দরে বিক্রি করেছি। গত বাজারের তুলনায় এ বাজারে দর ভালো পেয়েছি। 

নোয়াখালীর চৌমুহনীর পাইকারী ক্রেতা আশিষ কুমার জানান, মাটির ভিন্নতার কারণে এখানকার কাঠালের চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বাজারে দুই থেকে আড়াই হাজার কাঁঠাল ক্রয় করে থাকি। আজও দুই হাজার কাঠাল ক্রয় করেছি। আকার অনুসারে প্রতিটি গড়ে ১৮টাকা হারে পড়েছে। 

মো: আমিনুর রহমান ওরফে বাচা সওদাগর জানান, আড়তে কাচা কাঠালের চাইতে, পাকা কাঠালের চাহিদা বেশি। আমি আজ প্রায় ছয় হাজার কাঠাল ক্রয় করেছি। এর মধ্যে চার হাজার চট্টগ্রাম এবং দুই হাজার কাঠাল সিলেট পাঠিয়েছি।

এব্যাপারে দীঘিনালার উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুপন চাকমা জানান, দীঘিনালায় আগে বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষ করা হতো না। বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখানে আসায় অনেকেই বাণিজ্যিক ভাবে কাঠাল চাষাবাদ শুরু করছেন। অন্যদিকে কাঁঠালের পুষ্টি ও ঔষধিগুণ এবং মাটির ভিন্নতার কারণে এখানকার কাঁঠালের স্বাদও ভিন্ন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কাঁঠাল যাছে, দেশের বিভিন্ন জেলায়।

অপরদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা কৃষকের আম ও কাঠালের চাষিদের বাঁচাতে সরকার বিশেষ বিবেচনায় পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেবে।