Opu Hasnat

আজ ১৩ জুলাই সোমবার ২০২০,

জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের মুক্তিবার্তানেত্রকোনা

জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের

‘বল বীর-বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি, চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ বিদ্রোহী কবির এই অমর কবিতাটি বিরবির করে বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ছেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের এক সম্মুখ বীরযোদ্ধা আব্দুল হামিদ (৭৭)। যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার আশায় ঝাপিয়ে পড়ে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। সেই মহান মানুষটি আজ জীবন সায়াহ্নে এসে বেঁচে থাকার তীব্র লড়াই করছেন তখন তার খোঁজ নেবার কেউ নেই তার পাশে। বুধবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে এমনটাই দেখা গেছে। 

একাত্তরের রনাঙ্গনের সাথী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ১১ নং সেক্টরে। বয়সের ভারে রোগাক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী। তার শারিরীক অবস্থা এতোটাই নাজুক যে তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারছেন না। খুব চেষ্টা করে দু একটি কথা বললেও সেটি অস্পষ্টই থেকে যাচ্ছে। যতোবার কথা বলতে চাইছেন ততোবার তার চোখ ছলছল করে তাকিয়ে থাকে আমাদের দিকে। সংবাদকর্মী জেনে কি যেন বলতে চাইছেন, এ যেন আরেকবার উঠে দাঁড়াবার শেষ ইচ্ছা। 

পারিবারিক সুত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি হেপাটাইটিস বি, ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। ব্লক ধরা পড়েছে তার হার্টে। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করেছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। প্রায় আট মাস আগে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং এর সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে কিছু আর্থিক সাহায্য পাওয়া গিয়েছে, সেই অর্থ দিয়ে চলছিলো এই মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা। আর দপ্তর থেকে কোন প্রকার সহায়তা না পাওয়ায় থেকে যেতে বসেছে চিকিৎসাসেবা।   

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ এর ছেলে কবি শাওন হাসান জানান, গত তিন মাস ধরে আব্বু শয্যাশায়ী। তার বেঁচে থাকা এখন ঔষধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। আমাদের প্রতিদিন পার হয় খুবই কষ্টে। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। নিজেদের যেটুকু ছিলো সেটা দিয়ে আমরা চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রতি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় থাকি। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা হলেও মরণ যন্ত্রণা থেকে উপশম করা সম্ভব হতো। শাওন কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আব্বু শয্যাশায়ী হবার পর এ পর্যন্ত কেউই খোঁজ নিতে আসেননি। বিভিন্ন রোগে কাবু হয়ে এই মহান মানুষটি বিছানায় পড়ে শুধু আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিছু বলতে চাইলে অস্পষ্টই থেকে যায় তার অনেক কথা। 

‘মানুষ মানুষের জন্য-জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারে না’ এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, শয্যাশায়ী হবার পর সামান্য খোঁজটুকুও নেননি দুর্গাপুরের কেউ। এভাবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবেন ? এটা মেনে নেয়া বেদনার। আসুন, যে যেখান থেকে যার সহায়তা করার সুযোগ আছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা পাশে দাঁড়াই।