Opu Hasnat

আজ ৪ জুলাই শনিবার ২০২০,

তুহিন কুমার চন্দের একগুচ্ছ কবিতা শিল্প ও সাহিত্য

তুহিন কুমার চন্দের একগুচ্ছ কবিতা

ঘুমের পরী দু’খান চোখে 

দাওনা কিনে রঙ্গিন ঘুড়ি ইচ্ছে মতোন হাওয়ায় উড়ি
ইচ্ছে করে পড়ার সাথে এক্ষুনি দিই আড়ি।
এদেশ ওদেশ বনের পাশে প্রজাপতি নিত্য আসে
তাদের পাখায় ভীন দেশেরই স্বপ্ন চোখে ভাসে। 

তালের গাছে বাবুই বাসা জোনাক জ্বলে রাতে,
নিত্যপিসি কাঁদছে বসে খিল ধরেছে বাতে।
আউস ক্ষেতে আমন চাষে বকের সারি সারি
কোথায় তাদের ঘরবা আছে কোথায় দেশের বাড়ি।

রঙ্গিন ঘুড়ির সুতোয় বাঁধা ফড়িংরাজার পাখা,
দেখবে নাকি আকাশ কেমন রামধনু রং মাখা।
পলাশ বনে আগুন জ্বেলে ফাগুন হাওয়ায় মাতে,
পুকুর জলে ডুমুর ভাসে উজান গাঙ্গের সাথে।

রঙ্গিন ঘুড়ির সুতোয় বাঁধা আকাশ রাঙ্গা নীলে,
ছোঁ মেরে নেয় রঙ্গিন ঘুড়ি পাহাড় চাটা চিলে।
অবাক চোখে ছোট্টখোকা ঘুড়ির গল্প শোনে
ঘুমের পরী দু’খান চোখে রামধনু রং বোনে। 

      *****************

মোল্লা সেটা কুড়িয়ে পেলন

আলাউদ্দিন খাঁয়ের গানে মত্ত সময় কাটে
ভোরের আলোয় নেমে আসেন গোয়ালন্দ ঘাটে
চাঁদের দেশের মুন্সি গ্রামে একলা থাকেন তিনি 
পরীর পালক হীরের ঝালর করেন বিকিকিনি। 

এসব দেখে মোল্লা নাসির বেজায় হলো হুপিং কাশি
সাজাহানের বাপের মাসি জানি সে যে লখনোবাসী
আমীরসাহী লুকিয়ে সেসব দেখেন রাত্রি দিনে
নিলেন তিনি এক হাবেলি নগদ টাকায় কিনে।

মোল্লা বলে আসরাফি দাও সঙ্গে কিছু ফাউ    
নবাবজাদা খিদের চোটে খেলেন কিনে চাউ।
খেয়েই তিনি লুকিয়ে থাকেন অযোধ্যার এক ধামে
মোল্লা সেটা কুড়িয়ে পেলো নীল রংয়ের এক খামে।

        ******************

কপাল আমার বড্ড খারাপ 

কপাল আমার বড্ড খারাপ গ্রহের রকম ফেরে,
বিলাপ শুনে দাদু আমার  বলছে ডেকে কে রে!
উঠোন জুড়ে সকালবেলায় কান্না শুনি একি,
ঘরের থেকে বেড়িয়ে আমি অবাক হয়ে দেখি। 

বিশ টাকা ধার নিয়েছিলেন পাশের বাড়ির মেশো
এখন সেটা সুদ আসলে হয়েই গেছে দু’শো।
দাদু বলেন ধার নিয়েছো এখন কেন কান্না,
শোধ করোনি সবই গেছে বন্ধ রান্না বান্না।

সুখে থাকতে কিলোয় ভূতে ধারের টাকায় খেলা,
বোঝ এবার সুদ কত হয় বুঝছো তো এই বেলা।
লাগতো টাকা বলতে আমায় দিতাম তোমায় আমি,
আমার থেকেও সুদখোরেরা ভীষণরকম দামী!

হিসাব দেখে বললে দাদু করছো ভীষণ পূন্য
কুড়ি টাকার পাশেই দেখি যোগ করেছো শূন্য, 
ন্যাপলা মুদির সুদের খাতায় দু’শো টাকার পাশে
মেশোর হাতের স্বাক্ষরটা চোখ পাকিয়ে হাসে।

বলেন দাদু কপাল তোমার সত্যি গ্রহের ফেরে,
কুড়ি টাকা সুদের ঠেলায় দু'শোর অংকে ঘোরে।
ন্যাপলা মুদির সুদের খাতায় এমন অনেক আছে
বলছে না কেউ মুখ ফুটে আর ধরা পড়েন
পাছে!!

 *****************

সেই ছেলেটার উঠোন জুড়ে 

শুধু ভাতে নুন মেখে খায় লজ্জা কিছু কম না,
চুপ করে রয় এদেশ ওদেশ লুকোচ্ছে মুখ রমনা।
ওপার থেকে ডাকলে আমায় গাঙ্গশালিকের গানে
এপার থেকে সুর ভেসে যায় নদীর স্রোতের টানে।

বনশ্যাওড়ায় আটকে থাকা রাতের নরম মাটি
শিশির ঢাকে পলাশ বনে মেঘের শীতল পাটি।
শালের পাতা বস্তা দিয়ে সেই ছেলেটার বাড়ি 
দিচ্ছে না ভাব সবার সাথেই অভিমানের আড়ি।

আমার তোমার ঘরে রোজই যাচ্ছে বেচে খাবার,
কি হবে ছাই এদের দিয়ে মানুষ নাকি আবার!
গঙ্গা দিয়ে যাচ্ছে ভেসে পেঁয়াজ রংয়ের শাড়ি,
আমার দেশে এসব দেখে অবাক লাগে ভারি। 

সেই ছেলেটার উঠোন জুড়ে এপার ওপার  গড়া,
কাঁদছে মানুষ  এপার ওপার  দুঃখে জীবন ভরা
শুকনো ভাতে নুন মেখে খায় লজ্জা কিছু কম না,
আমার দেশের রং তামাশায় মুখ ঢেকে রয় রমনা। 

   *******************

এখন যদি তোমায় ডাকি 

এখন যদি তোমায় ডাকি আকাশ ভারী সন্দ করে
ধুতরা ফুলের কন্দমূলে উজান গাঙ্গে জড়িয়ে ধরে
মৃত নদীর বুক চিড়ে আজ রামধনুকের কাজল আঁকা,
তোমায় আমি ডাকলে পরে স্পষ্ট দেখি হাতের রেখা।

তক্ষশিলার ধ্বংস স্তুপে জ্ঞান দিয়েছে মানুষজনে
সিন্ধু কেবল কেঁদেই গেছে নিজের দোষে আপনমনে
তোমায় ডাকি আকাশ থেকে কালোমেঘের আস্তরনে
কুন্দ বনে একলা আলোয় জ্যোৎস্না জানি প্রহর গোনে। 

বৃদ্ধবটের শেকড় জড়ায় মরা নদীর জল বাতাসে
সন্দ জাগে দূরের বনে সোহাগ হারায় নীল আকাশে,
তোমায় নিয়ে পালিয়ে যাবো ছন্দমাখা দূর সে গ্রামে,
মেঘ ছুঁয়ে যায় আকাশমনি জ্যোৎস্না যেথায় নিত্য নামে।

 

তুহিন কুমার চন্দ
সুদর্শনপুর, রায়গঞ্জ-৭৩৩১৩৪
উত্তর দিনাজপুর (প.ব.)
ভারত।